তামিম-লিটনের রেকর্ড জুটিতে রান পাহাড়ে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার, স্টেডিয়াম থেকে : জিম্বাবুয়ে সিরিজে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। তারা দুজন মিলে করছেন একের পর এক রেকর্ড। প্রথম উইকেট জুটিকে ২১ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙ্গেছে করেছেন ২৯২ রানের জুটি । ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭০ করেছিলেন মেহরাব হোসেন অপি ও শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ।এরপর বাংলাদেশের যেকোন উইকেট জুটিকে ২২৪ রানের রেকর্ড জুটিও ভেঙ্গেছেন। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে সাকিব ও মাহমুদ উল্লাহ মিলে করেন এই রেকর্ড। আগের ম্যাচে তামিম ১৫৮ রান করে বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেকে ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রানের রেকর্ড গড়েন। একম্যাচ পর সেই রেকর্ড ভেঙ্গে লিটন করেন ১৪৩ বলে ১৭৬ রানের ইনিংস। তবে তামিমও কম যননি। ১০৯ বলে করেন ১২৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস । যেটি তার ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি।
তাদের এই রেকর্ড জুটিতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৪৩ ওভারে ৩ উইকেটের বিনিময়ে ৩২২ রান করে বাংলাদেশ। তবে বৃষ্টি আইনে জিম্বাবরেয়র কাছে লক্ষ্য দাড়ায় ৪৩ ওভারে ৩৪২ রানের।

এর আগে এর আগে ২টায় সিলেট ক্রিকেট আন্তর্জাকিত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হয়। তবে বাংলাদেশের রান যখন ৩৩.২ ওভারে বিনা উইকেটে ১৮২ তখন বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকে। ৪টা ৭ মিনিটে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেমে থেমে চলে। তবে বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে বৃষ্টি থেমে যায়।সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মাঠ পরিদর্শন করেনআম্পায়াররা। পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ম্যাচ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। খেরা শুরু হলে মাত্র ৯.৪ ওভার ব্যাটিং করতে বাংলাদেশ আবার মাঠে নামে। মোট ৪৩ ওভার পায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট এ নিয়ে চতুর্থবার এক ম্যাচে জোড়া শতক আসল। এর আগে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া শতক পেয়েছিলেন তামিম ও মুশফিক। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব জোড়া শতক পান। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ইমরুল ও সৌম্য হাঁকান সেঞ্চুরি। এবার একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লিটন ও তামিম পেলেন সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিতে তামিম ও লিটন ২১ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙ্গেছে । ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭০ করেছিলেন মেহরাব হোসেন অপি ও শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ। এনামুল হক বিজয় ও তামিম ইকবাল ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ১৫৮ করেছিলেন।তবে আজকে সিলেটে তামিম ও লিটন মিলে রেকর্ডটি দিজেদের করে নিলেন। ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের ১৭তম উদ্বোধনী জুটির সেঞ্চুরি। সবশেষ এ দুই ব্যাটসম্যানই পেয়েছিলেন জুটির শতরান। ১৪ ম্যাচ আগে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে তামিম ও লিটনের জুটির রান ছিল ১১৭। মাঝের ১৪ ম্যাচে দুইবার এসেছিল ৬০ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওভালে তামিম ও সৌম্য ৬০ রান করেছিলেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও তামিম ও লিটনের রান ৬০ ছুঁয়েছিল।

সিলেটে সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ। টসে জিতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক শন উইলিয়ামস ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।মাশরাফির অধিনায়কত্বের বিদায়ী ম্যাচে চার পরিবর্তন করেছে ম্যানেজমেন্ট। মূলত, পাকিস্তান সিরিজে ওয়ানডে দলকে খেলানোর পরিকল্পনা দলের। তাই দল বিশ্রামে রেখেছে মুশফিকুর রহিমকে। এছাড়াও ইনজুরির জন্য বিশ্রামে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। শফিউল পারিবারিক কারণে ফিরেছেন ঢাকায়। বাদ পড়েছেন আল আমিন হোসেন। বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হচ্ছে মোহাম্মদ নাইম ও আফিফ হোসেনের। দলে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন ও মুস্তাফিজুর রহমান। জিম্বাবুয়ে নেমেছে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে।
এই ম্যাচে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে হাতছানি দিচ্ছে অনন্য এক মাইলফলক। কেননা সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ যদি জয়ের দেখা পায়, তবে এই জয় হবে মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশের ৫০তম জয়।
২০১০ সালে দলের গুরুদায়িত্ব বুঝে পেয়েছিলেন ম্যাশ। কিন্তু হাঁটুর ইনজুরির কারণে ঠিকভাবে পারেননি সেই দায়িত্বে মনোনিবেশ করতে। এরপর ২০১৪ সালে ফের পুরোদমে টাইগারদের দায়িত্ব বুঝে নেন টাইগার এই দলপতি।
এখন পর্যন্ত ৮৭ ম্যাচে টাইগারদের নেতৃত্ব দিয়েছেন ম্যাশ। নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশকে দুইটি বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।
বাংলাদেশের জন্য প্রথম কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা আসে তারই হাত ধরে। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটিও তার। ৮৭ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে জয় পেয়েছেন ৪৯টি ম্যাচে। শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের হাফসেঞ্চুরির অপেক্ষায় টাইগার এই দলপতি।
অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক ওয়ানডে জয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। অধিনায়ক হিসেবে ৬৯ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করে দেশকে এনে দিয়েছেন ২৯টি জয়। এরপরের অবস্থানেই রয়েছেন ক্রিকেটের বরপুত্র সাকিব আল হাসান। ৫০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছেন তিনি ২৩ ম্যাচে।
সেই সঙ্গে মুশফিকুর রহিম ১১ ম্যাচ, মোহাম্মদ আশরাফুল ৮ ম্যাচ, খালেদ মাসুদ ৪ ম্যাচ, আমিনুল ইসলাম ২ ম্যাচ, আকরাম খান ১ ম্যাচ, খালেদ মাহমুদ ১৫ ম্যাচ, গাজী আশরাফ হোসেন ৭ ম্যাচ, মিনহাজুল আবেদীন ২ ম্যাচ, নাঈমুর রহমান ৪ ম্যাচ, তামিম ইকবাল ৩ ম্যাচ ও রাজিন সালেহ ২ ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে একটি ম্যাচেও জয়ের মুখ দেখেননি।
অনন্য মাইলফলক সামনে থাকলেও, সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে জয়কে প্রধান লক্ষ্য করেছেন মাশরাফি, ‘যেকোন মাইলফলকের চেয়ে জয় হলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খেলোয়াড়রা বাংলাদেশের জন্য জিততে খেলি, মাইলফলকের জন্য নয়। তাই আমরা, জিততেই খেলতে নামবো এবং এটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ম্যাচে শুরুতে ব্যাটিং করে ৬ উইকেটে ৩২১ রান সংগ্রহ করে তারা।
এরপর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তামিম ইকবালের (১৩৬ বলে ১৫৮ রান) সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ৩২২ রান করে স্বাগতিকরা। এবার সিরিজের শেষ ওয়ানডেতেও শুরুতে ব্যাটিং করলে তিনশ ঊর্ধ্ব রান করার লক্ষ্য থাকবে মাশরাফিবাহিনীর।

বাংলাদেশ একাদশ
তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মোহাম্মদ নাইম, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ মিথুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।

জিম্বাবুয়ে একাদশ
তিনাশে কামুনহুকামউই, রেগিস চাকাবা, ব্রেন্ডান টেলর, শন উইলিয়ামস (অধিনায়ক), ওয়েসলি মাধবেরে, সিকান্দার রাজা, রিচমন্ড মুতুম্বামি, তিনোটেন্ডা মুতুমবোজি, ডোনাল্ড টিরিপানো, চার্লটন টিসুমা, কার্ল মুম্বা।

শেয়ার করুন