করোনাভাইরাস: সিলেটে কারাগার থেকে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে বন্দিরা

কারাগার থেকে কথা বলছেন এক বন্দি

নিরাপত্তাজনিত কারণে টপটেরর, জঙ্গি, ব্লগার এবং মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা এ সুযোগ পাবে না : ভিড় এড়ানো যাবে : সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল
বিশেষ রিপোর্ট : নভেল করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারাগার থেকে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা। মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারাবন্দীদের জন্য ফোন বুথের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ৬ দিনে কয়েক শতাধিক বন্দি তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো: আব্দুল জলিল।
তিনি জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় চালু করা হয়েছে এ ফোন বুথ। কারা অধিদপ্তরের উদ্যোগে দু’বছর আগে টাঙ্গাইলে পরীক্ষামূলকভাবে এ পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানকার সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সিলেটে ও এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বন্দিরা সপ্তাহে একদিন তাদের স্বজনদের সাথে ৫ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে টপটেরর, জঙ্গি, ব্লগার এবং মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা এ সুযোগ পাবে না। এজন্য মিনিট প্রতি এক টাকা কেটে নেয়া হবে বন্দিদেও পিসি (প্রিজন সেল) থেকে। এর মাধ্যমে বন্দিদের স্বজনদের কারাগারে আসার মানসিকতা কমবে। পাশাপাশি কারাবন্দিদের মনও ভালো থাকবে।

কারাগারে ফোন বুথের উদ্বোধন করছেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসি ও জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ মোবাইল ফোন বুথ উদ্বোধন করেন । এ সময় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুছুর রহমান ও সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: প্রেমানন্দ মন্ডলসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রমতে, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ ফোন বুথের কার্যক্রম চালু হলেও শিগগিরই কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর বন্দিরাও ফোনে কথা বলার সুযোগ পাবে। এজন্য ফোনসেট ও মোবাইল সিম সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে আনা হচ্ছে।
কারা সূত্র জানায়, ফোনের বুথগুলোতে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কথা বলার সময় কোন বন্দি যাতে অপরাধ কর্মকান্ড না ঘটাতে পারে-সেদিকে সতর্ক নজর রাখা হবে। ফোনে অপরাধ সংশ্লিষ্ট কোনও তথ্য আদান প্রদান করা যাবে না।
সূত্রমতে, বুথ থেকে শুধু কথার বলার সুযোগ থাকবে। বাইরে থেকে কোনও ফোন কারা নম্বরে করা গেলেও বন্দিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকবে না । প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টায় প্রথম ধাপ এবং বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে কথা বলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে কেউ কথা বলার সুযোগ পাবে না।
জানা গেছে, ফোনে কথা বলার টাকা সরাসরি গ্রহণ না করে যেসব বন্দির টাকা পিসিতে জমা থাকবে, তাদের টাকা পিসি থেকে কেটে নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ২৫০ জন বন্দির জন্য থাকবে একটি বুথ।
কারা সূত্র অনুযায়ী, কারাগারে বর্তমানে আড়াই হাজার বন্দি রয়েছে। তাদের জন্য অন্তত ১০টি ফোন বুথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নারী বন্দিদের জন্য থাকবে আলাদা ফোন বুথ। কারা অভ্যন্তরে স্থাপন করা ফোন বুথের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকবেন কারারক্ষীরা। তাদের ফোন নম্বর দেওয়ার পর তারা সেই নম্বরে সংযোগ করে বন্দিদের কথা বলার সুযোগ দেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্দিরা উপস্থিত থেকে সিরিয়াল অনুযায়ী কথা বলার সুযোগ পাবে। তবে, সমস্যা হচ্ছে, অনেক বন্দিরই তাদের স্বজনদের মোবাইল নম্বর মুখস্থ নেই। যাদের নম্বর মুখস্থ আছে-তারা কেবল কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান কারা অধিদপ্তরের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জানান, এটি একটি যুগোপযোগী ও ভালো উদ্যোগ। কারাবন্দিরা তাদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে উৎফুল্ল থাকবে এবং তাদের পরিবারও কথা বলে কিছুটা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে কারাগারে বন্দিদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতি অনেকটা কমে আসবে। বন্দিদের জীবনমান ও মানসিকতার উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিভাগীয় কমিশনার।’

শেয়ার করুন