সিলেটে একুশের আলোকে নাট্য প্রদর্শনীর পর্দা নামলো

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ॥ মহান ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের আয়োজনে একুশের আলোকে নাট্য প্রদর্শনীর পর্দা নেমেছে সোমবার রাতে, জমকালো আয়োজন আর স্মারকগ্রন্থ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে। একই সাথে নাট্য প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী নাট্যদলের প্রতিটি নাটকের নির্দেশককে উত্তরীয় তুলে দেওয়া হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষকে জাগ্রত করতে এবং সমাজকে সচেতন করতে প্রয়োজন মুক্ত সংস্কৃতি চর্চার। একটি মানবিক বাংলাদেশের জন্য নাট্য ও সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। নাটকের মধ্য দিয়ে অতি সহজেই মানুষের কাছে সমাজ জীবনের চিত্র ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলী তুলে ধরা সম্ভব।’

‘একুশে মিছিল, একুশে হাঁটা, একুশ মানে না পথের কাঁটা’ এই স্লোগানে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নাট্য প্রদর্শনী শুরু হয়েছিল। সিলেট কবি নজরুল অডিটোরিয়াম প্রতিদিনই সিলেটের নাট্যমোদী দর্শকের উপস্থিতি নাট্যপ্রদর্শনীকে প্রাণবন্ত করে তুলে। এ প্রদর্শনীতে সিলেটের সিলেটের ১৬টি নাট্যদল তাদের নাটক প্রদর্শন করে। নাট্য প্রদর্শনীতে সহযোগিতা করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট জেলা পরিষদ।

নাট্য প্রদর্শনীর সমাপনী দিনে সোমবার নান্দিক নাট্যদলের নাটক ‘বাসন’ প্রদর্শীত হয়। এটি রচনা করেছেন সেলিম আল দীন, পুনঃ নির্দেশনা দিয়েছেন উজ্জল দাস। নাটকে অভিনয় করেন উজ্জ্বল দাস, কনোজ চক্রবর্তী, মাধব কর্মকার, ইমরান খান, ফখরুল আহমদ, পরাগ রেণু দেব, অমিত ত্রিবেদী, আরিফুল ইসলাম, হিমাংশু হিমু, হিল্লোল শর্মা, পান্না ভট্টাচার্য, শিমুল, পার্থ প্রতিম রায়। নাট্য প্রদর্শনী শেষে নাট্যদলকে স্মারক ও ফুলের শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমেদ চৌধুরী মিশুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্তের পরিচালনায় নাটক শেষে সমাপনী আয়োজনে উৎসব স্মারকের মোড়ক উন্মোচন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নর্থ ইষ্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য্য প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী, মদনমোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক সর্বানী অর্জুন, নাট্যজন সুনির্মল কুমার দেব মিন, নাট্য পরিষদের প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন, পরিচালক চম্পক সরকার, সহ-সভাপতি উজ্জল দাস, যুগ্ম সম্পাদক সুপ্রিয় দেব শান্ত, কোষাধ্যক্ষ ইন্দ্রানি সেন শম্পা, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক অচিন্ত কুমার দে, নির্বাহী সদস্য দিবাকর সরকার ও ফারজানা সুমি।

শেয়ার করুন