শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।। শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের সময় নির্বিচার হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে দেশটির সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল শভেন্দ্র সিলভাকে কালো তালিকাভূক্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কালো তালিকাভূক্তির কারণে জেনারেল সিলভা আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও স্থানীয় সময় শুক্রবার এক টুইট বার্তায় এ নিষেধাজ্ঞার খবর জানিয়ে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ চলাকালীন নির্বিচারে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে আমি লেফটেন্যান্ট জেনারেল শভেন্দ্র সিলভাকে কালো তালিকাভূক্ত করছি। এর ফলে তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলো।’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে জবাবদিহিতা থেকে কোনো প্রকার ছাড়া না দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অনড়।’

এর আগে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাতিসংঘসহ অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের কাছে জেনারেল সিলভার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ রয়েছে।

শুক্রবার ওয়াশিংটন বারও জেনারেল সিলভা ও তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, সিলভার বিরুদ্ধে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি’।

মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে বলেছে, যাচাইবিহীন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিলভা ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানাচ্ছে শ্রীলঙ্কা সরকার। প্রসঙ্গত, গত আগস্টে জেনারেল সিলভা এশিয়ার ওই দ্বীপরাষ্ট্রটির সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান।

তবে জেনারেল সিলভাকে সেনাপ্রধান নিয়োগ করার পর থেকেই শ্রীলঙ্কার তীব্র সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ। শ্রীলঙ্কার এমন সিদ্ধান্তের পর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন থেকে লঙ্কান সেনাদের বহিষ্কার করা হয়। ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহী তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর এক অংশের নেতৃত্বে ছিলেন সিলভা।

তামিল টাইগারদের (এলটিটিই) বিরুদ্ধে সিলভার জয় ব্যাপক বিতর্কিত। কেননা ওই যুদ্ধে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ বিনা কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি সরকারঘোষিত ‘নো-ফায়ার জোনে’ও মানুষ মরেছে। এরকম অনেক জোনের মধ্যে হাসপাতালও ছিল—দেশটির সেনাবাহিনী সেসব স্থানেও কামান-গুলি ছুড়ে মানুষ হত্যা করে।

জেনারেল সিলভা সেনাবাহিনীর যে অংশের নেতৃত্বে ছিলেন, গৃহযুদ্ধের চূড়ান্ত সময়ে এসেও ওই শাখা নিরস্ত্র বিদ্রোহীদের পাইকারি হারে হত্যা করে বলে অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ। এছাড়া সরকারি হেফাজতে নিয়ে মানুষের ওপর পদ্ধগতিভাবে নির্যাতনের অভিযোগও আছে সিলভার বিরুদ্ধে। গার্ডিয়ান।

শেয়ার করুন