লিডিং ইউনিভার্সিটিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

সিলেটের সকাল ডেস্ক ॥ লিডিং ইউনিভার্সিটিতে যৌন হয়রানি ও সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারি-১ এ বিকাল ২টায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সচেতনতা বিষয়ক কমিটির উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং আলোচক হিসেবে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, সিলেটের যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ মো. মোয়াজ্জেম হোছাইন ও বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ফজিলাতুন নেছা উপস্থিত ছিলেন।

লিডিং ইউনিভার্সিটির যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সচেতনতা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুম্পা শারমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জীবন, পরিবার ও সমাজকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে নৈতিক অবক্ষয় থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখতে হবে। একাডেমিক বহির্ভূত এ বিষয়ে জ্ঞানার্জন করা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সচেতনতা বিষয়ক ধারনা রাখা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘লিডিং ইউনিভার্সিটিতে এ বিষয়ে যে কমিটি রয়েছে তা যথাযতভাবে কাজ করে যাচেছ। এ বিষয়ে মূল্যবান আলোচনা ও শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করার জন্য তিনি আলোচকদেরকে ধন্যবাদ জানান।’

সহপাঠিদের কাছে সহপাঠিরা সবচেয়ে বেশী নিরাপদ উল্লেখ করে মো. মোয়াজ্জেম হোছাইন এ বিষয়ের উপর ৩টি দন্ডবিধি যেমন কোন কথা, আচরন বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কোন মহিলাকে হয়রানি করলে দন্ডবিধি ১৮৬০ পেনাল কোর্ট ৫০৯ অনুযায়ী ১ বছরের সাজা, নারি ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সেকশন ১০ অনুযায়ি ১০ বছরের জামিনবিহীন সাজা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

তিনি এ বিষয়ে সবাইকে একসাথে আওয়াজ তুলারও আহবান জানান যাতে অপরাধীরা হেয়প্রতিপন্য হয়। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে একে অপরকে সম্মান করা এবং ঘৃনাকে কোথাও স্থান না দিয়ে সম্মিলিতভাবে যৌন হয়রানিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলার পরামর্শ প্রদান করেন।

বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ফজিলাতুন নেছা বলেন, ‘১৩ থেকে ২৩ বছর বয়সের কিশোর/ কিশোরীদের জ্ঞান ও আবেগের বিকাশ, ধৈর্য হাড়ানো বা হঠাৎ চটে যাওয়া, বিভিন্ন বিষয়ে আশক্তি, আন্তকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়া, আত্নহুতি দেওয়া, দল পাকানোর অভ্যাস, অপরাধ প্রবনতা এবং বিভিন্ন ধরনের যৌন হয়রানিমূলক কাজে সম্পৃক্ত হবার কারন এ থেকে প্রতিকার পাবার বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কিশোর/ কিশোরীদের মধ্যে এ আচরন আসবে সেটা স্বাভাবিক কিন্তু তা কারো সাথে শেয়ার করার সুযোগ করে দিতে হবে যাতে তারা অপরাধ প্রবনতায় জড়িয়ে না পরে।’

সেমিনারে আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এম. রকিব উদ্দিন, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডীন প্রফেসর নাসির উদ্দিন আহমেদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোস্তাক আহমাদ দীন, রেজিস্ট্রার মেজর (অব.) মো. শাহ আলম, পিএসসি, প্রক্টর ও আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. রাশেদুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পাবলিক হেল্থ বিভাগের প্রভাষক ডা: সাবরিনা ফরিদা চৌধুরী।- বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার করুন