বিশ্বনাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ফটিক ১৮ মামলার আসামি

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি ॥ সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ডাকাতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তার পরিবার। নিহত ফটিক ওরফে লিটন বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নওধার (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত ইদ্রিছ আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, অস্ত্র, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৮ মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলা সদরের বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর বাইপাস সড়কের মরমপুর-সুরিরখাল এলাকার মধ্যবর্তী জায়গায় সড়কের পার্শ্বের গাছ কেটে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। এসময় পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। দুপুরে নিহতের স্ত্রী হালিমা বেগম সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে মরদেহ ফটিকে বলে শনাক্ত করে। ময়না তদন্ত শেষে বিকেলেই মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন।

এদিকে নিহত ফটিক ওরফে লিটনের স্ত্রী হালিমা বেগম তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামী দুই বছর দুই মাস কারাগারে আটক থাকার পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিনে মুক্ত করি। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হওয়ার দুই মিনিটের মাথায় জেলগেট থেকে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে আজ দুপুরে স্বামীর লাশ ফেসবুকে দেখে শনাক্ত করি। থানায় এসে শুনি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি মারা গেছেন।’

তিনি বলেন ‘আমার স্বামী ডাকাত হতে পারে না। পুলিশ আমার স্বামীকে ডাকাত বানাইছে। আমি এর বিচার চাই।’

তবে ফটিকের স্ত্রীর অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামীম মুসা বলেন, ‘রাস্তায় গাছ ফেলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালেই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ফটিক। শনিবার বিকেলে তার পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডাকাতিসহ সকল প্রকার অপরাধ দমনে থানা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন-বিশ্বনাথে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত

শেয়ার করুন