বাসিয়া নদীর দখলদার উচ্ছেদে আদালতের স্থগিতাদেশ অন্যায্য ॥ সুলতানা কামাল

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি ॥ সিলেটের বিশ্বনাথে বাসিয়া নদীর দখলদারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে আদালতের যে স্থগিতাদেশ আছে সেটা অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার সভাপতি ও তত্তবাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।

তিনি বলেন, ‘নদী রক্ষায় আদালতসমূহ অনেক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে যা কঠোর ভাবে বাস্তবায়ন প্রয়োজন। আবার কখনো কখনো আদালতের ভূমিকা আমাদের মনে সংশয় উদ্রেগ করেছে। যদি কখনো কোনো আদালত জনগন ও নদীর স্বার্থের বিপরীতে ব্যবসায়ী ও নদী দখলকারীদের পক্ষে অবস্থান নেয় তবে অবশ্যই আমরা তাকে অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য বলব।’

‘আমরা মনে করি আদালত এ বিষয়ে বিবেচনা করবেন। তা না হলে আমরা যে হাহাকার করি এই দেশে ন্যায় বিচার হয় না, সে হাহাকার সত্যি হয়ে যাবে।’

শনিবার বিকেলে বাসিয়া নদীর সংলগ্ন বিশ্বনাথ বাজারে এক জনসভা এসব কথা বলেন সুলতানা কামাল। বিশ্বনাথের ‘বাসিয়া নদী’কে অবিলম্বে দখলদারমুক্ত করা ও নদী দূষণ বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহনের দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা, সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে জনসভায়র আয়োজন করা হয়।

সুলতানা কামাল বলেন, বাংলাদেশের নদী বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত । সারা দেশে এই ভাবে নদীগুলি দখল ও দূষণে ধ্বংস করে দেয়ার জন্যে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেননি। আমরা দেশে সাম্য ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি, দেশের নদী লুটেরা ও ব্যবসায়ীদের কাছে ছেড়ে দেয়ার জন্যে নয়।’

‘স্বাধীন দেশে নাকে কাপড় দিয়ে ঘুরতে হয়। কারণ ময়লা ফেলে নদীতে ভাগাড় তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্বনাথের বাসিয়া নদীতে এর ব্যতিক্রম দেখি নাই। কিন্তু এই নদী আমাদের সম্পদ। এই সম্পদগুলো আমাদের বাঁচাতে হবে। এই দেশকে সব মানুষের বাসযোগ্য করতে হলে প্রকৃতির দান সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করতে হবে। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম জীবকে এই প্রকৃতি দান করেছেন সৃষ্টিকর্তা। বসিয়া নদীকে আগের রুপে ফিরিয়ে আনতে বিশ্বনাথের জনগণ, প্রশাসন মিলে কাজ করতে হবে।’

বিশ্বনাথবাসীকে সুলতানা কামাল বলেন, ‘আপনারা এই নদীকে মরতে দিয়েন না। কারণ নদী সৃষ্টিকর্তার আমানত। এই আমানতের খেয়ানত করবেন না।’

বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মো. ফজল খানের সভাপতিত্বে ও ধ্রুবতারার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল বাতিনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার সভাপতি ও তত্তবাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।

প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আবদুল করিম কিম, বাপার জাতীয় সদস্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল, বিশ্বনাথ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ছামির মাহমুদ, বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক।

জনসভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব শামসুল ইসলাম মুবিন। আরও বক্তব্য দেন, বিশ্বানাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, বাঁচাও হাওর আন্দোলনের আহবায়ক সাজিদুর রহমান সোহেল, বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদের সোয়েব বিন হেলালী, বিশ্বনাথ পুরান বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল মিয়া, বিশ্বনাথ উপজেলা জাতীয়পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আলী, বিশ্বনাথ উপজেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস হোসেন ইমরান প্রমুখ।

শেয়ার করুন