ইসলাম মজলুমের জন্য, জালিমের জন্য নয়: মাওলানা মওদুদ মাদানী

জামিয়া মাহমুদিয়া সোবহানিঘাট মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল সম্পন্ন

সিলেটের সকাল ডেস্ক ।। হযরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মজলুম ছিলেন উল্লেখ করে ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা সাইয়্যিদ মওদুদ মাদানী বলেছেন, ‘ইসলাম মজলুমের জন্য, জালিমের জন্য নয়। মজলুমদের সাথে সবসময় আল্লাহ থাকেন। আমাদের নবী (সা.) ও মজলুম ছিলেন। তাই মজলুম হওয়ার নবীজী (সা.)-এর সুন্নাত। আর মজলুম ব্যক্তিকে আল্লাহও পছন্দ করেন।’

শুক্রবার রাতে সিলেটের জামিয়া মাহমুদিয়া ইসলামিয়া সোবহানিঘাট মাদ্রাসার ৪১তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মাদ্রাসার অদূরে হাজী আব্দুল আহাদ ময়না মিয়া মার্কেট সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছুই আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণের জন্য বানিয়েছন। তা এত বিপুল, যা পরিসংখ্যান করা সম্ভব নয়। আমাদের উপর আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত হলো ‘ঈমানের নেয়ামত’। তিনি আমাদেরকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন, মুমিন বানিয়েছ্ন।’

ঈমানের নেয়ামতের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে সাইয়্যিদ মওদুদ মাদানী আরও বলেন, ‘কেউ ইচ্ছে করলেই ঈমানের নিয়ামত পাবে না, হেদায়াত পাবে না। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে তাঁকে হেদায়াত দিয়ে থাকেন। পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা পবিত্র কুরআন ও হাদীস নিয়ে রিসার্চ করছে, তবুও হেদায়াত পাচ্ছে না, ঈমানের নেয়ামত পাচ্ছে না। অথচ আমরা কোন কষ্ট ছাড়া অতিসহজেই ঈমানের নেয়ামত পেয়ে গেছি। আমরা আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করি।’

তিনি মাদারিসে ক্বওমিয়ার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ক্বওমী মাদ্রাসার সহযোগিতা হচ্ছে নবী (সা.) এর মিশনের সহযোগিতা। কারণ এ ধারা তার সময় থেকেই চলে আসছে। মদিনায় হিজরতের পর নবী (সা.) মাদ্রাসা তৈরি করেছিলেন; সেখানকার বাসিন্দাদের আসহাবে সুফফা বলা হয়। এজন্য তিনি ক্বওমি মাদ্রাসায় সর্বাত্বক সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহŸানও জানান।

ওয়াজ মাহফিলের তিনটি অধিবেশনে পৃথক সভাপতিত্ব করেন পাকিস্তানের হাকীম আখতারের খলিফা মাওলানা শায়খ আছগর হুসাইন, সিলেটের জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগাহে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী এবং জামেয়া মোহাম্মদিয়া লামাগ্রাম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হাফিজ আব্দুল গাফফার রায়পুরী।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বয়ান পেশ করেন শায়খুল হাদীস নুরুল ইসলাম খান, মাওলানা মুফতি কেফায়াতুল্লাহ, মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ, মাওলানা মুশতাক আহমদ খান, মাওলানা মরতুজ হাসান ফয়জী। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বয়ান রাখেন- মাওলানা আব্দুস শহিদ শায়খে গলমুকাপনী, আযাদ দ্বীনি এদারার মহাসচিব মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা নজমুদ্দীন কাসিমী, মাওলানা মুখলিসুর রহমান রাজাগঞ্জী, মাওলানা সালেহ নজীব আল আইয়ুবীসহ দেশ-বিদেশের আরো ওলামায়ে কেরাম বয়ান পেশ করেন।

জামিয়ার মুহতামিম আহমদ কবীর বিন আমকুনি ও সহকারী মুহতামিম আহমদ সগীর বিন আমকুনি সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ জনগণকে সম্মেলনে অংশ নেয়ায় আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। ওয়াজ মাহফিল উপলক্ষে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা শায়েক শফিকুল হক আমকুনি (রহ.) এর স্মরণে আশ-শফিক নামে বিশেষ বুলেটিন প্রকাশিত হয়।

শেয়ার করুন