১২ বছর পর শাবির তৃতীয় সমাবর্তন আজ

বর্ণিল সাজে ক্যাম্পাস : আসছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ

শাবি প্রতিনিধি: দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(শাবি) তৃতীয় সমাবর্তনকে উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। দীর্ঘ ১২ বছর পরে আজ বুধবার অনুষ্ঠেয় শাবির এ সমাবর্তনকে ঘিরে বর্তমান ও পুরনো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে অন্য রকম উচ্ছ¡াস। এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেছেন গ্র্যাজুয়েটরা।

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ

বিশ্ববিদ্যালয়ে আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট লেখক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
সিলেট জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত ট্যুর শিডিউল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আজ বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার প্রদানের পর রাষ্ট্রপতি দরগাহে হযরত শাহজালাল(র.) ও হযরত শাহপরান(র.) মাজার জিয়ারত করবেন। বেলা তিনটায় তিনি শাবির সমাবর্তনে যোগ দেবেন। সমাবর্তনশেষে ওইদিন বেলা ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করবেন।
সরেজমিনে গেছে, সমাবর্তনকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে সমাবর্তনের সাথে জড়িত দফতর গুলো। রাস্তা মেরামত করা, ফাঁকা জায়গায় ফুলের গাছ লাগানো, বিল্ডিংয়ে নতুন রং করাসহ গোল চত্ত¡রের সৌন্দর্য্য বর্ধন করা হয়েছে। আলোকসজ্জার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে সমাবর্তনস্থল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে লাগানো হয়েছে লাল-নীল-সবুজ বাতি এবং রং-বেরং এর পতাকা। বিভিন্ন ভবনের সামনে এবং উপরে টানানো হয়েছে সমাবর্তনের ব্যানার-ফেস্টুন। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজও শেষ। সমাবর্তনের জন্য গ্র্যাজুয়েটদের সনদ তৈরির কাজও অনেক আগেই শেষ করেছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। জানা যায়, সমাবর্তন আয়োজনের জন্য ১৭টি আহŸায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। প্রতিটি কমিটি সমাবর্তনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিনভর কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্মরণিকা, কস্টিউম সামগ্রী (গাউন, ক্যাপ) গিফ্ট, ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের হাতে হস্তান্তর করা শুরু করেছে ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এবারের সমাবর্তনে রেজিস্ট্রেশন করেছে মোট ৬ হাজার ৭৫০ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে স্নাতক ৪ হাজার ৬১৭ জন, স্নাতকোত্তর ১ হাজার ১২৭ জন, পিএইচডি ২ জন, এমবিবিএস ৮৭৮ জন, এমএস ও এমডি ডিগ্রিধারী ৬ জন এবং নার্সিংয়ের ১২০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকে সর্বোচ্চ রেজাল্টের জন্য ১০ জন শিক্ষার্থী, স্নাতকোত্তরে ৫ সেরা শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক দেওয়া হবে। এছাড়াও ২য় সমাবর্তনে বাকি থাকা ৫ স্বর্ণপদকও এই সমাবর্তনে প্রদান করা হবে। এনিয়ে মোট ২০টি রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে। অন্যদিকে ফ্যাকাল্টি প্রথম হওয়া মোট ৮৯ জন শিক্ষার্থীকে উপাচার্য অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে বলে সূত্র জানায়।
সার্বিক বিষয়ে শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সমাবর্তন কেন্দ্রিক আমাদের যা যা পরিকল্পনা ছিল তা সুন্দরভাবে কাজ হচ্ছে। সমাবর্তনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনোরকম ঘাটতি থাকবে না। সকলের প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর সমাবর্তন উপহার দেয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পর দীর্ঘ ২৮ বছরে মাত্র দু’টি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৯৮ সালের ২৯ এপ্রিল বিশবিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন এবং এর নয় বছর পর ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এর ১২ বছর পর তৃতীয় এ সমাবর্তন আয়োজন করা হলো।

শেয়ার করুন