সড়ক দুর্ঘটনা রুখতে হবে

নুরুল আমিন জিহাদ

বর্তমানে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে, যা আমরা প্রতিদিন খবরের কাগজ, টেলিভিশন, ফেসবুক ইত্যাদি কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনার খবর দেখতে পাই। যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে।

২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের পরিসংখ্যান দিয়েছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে কাজ করা সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। সংগঠনটি বলছে, ২০১৯ সালে ৪ হাজার ৭০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ২২৭ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৫৩ জন।

২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন করেছিল। যার পরিপেক্ষিতে সড়ক ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী কিছু নতুন আইন প্রণয়ন করেছিল। তার পরেও বাংলাদেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা যেন কমছে না। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার মৌলিক কারণ ও এর থেকে প্রতিকার পাওয়ার উপায়গুলো আমাদের জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই এর থেকে আমরা মুক্তি পাব।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—অদক্ষ ড্রাইভার, ত্রুটিপূর্ণ মোটরযান, রোড সিগন্যাল মেনে না চলা, রাস্তার ওপরে ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান নিয়ে বসা, অসতর্কতার সঙ্গে যাত্রী রাস্তা পারাপার হওয়া, অতিরিক্ত ওভার টেকিং করা ইত্যাদি। এ সমস্যাগুলো দূর করতে হলে ড্রাইভারকে বিভিন্ন প্রকার ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে, মোটরযান চলনায় দক্ষ হতে হবে, সড়কের পাশে অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে এবং পথচারীদের সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পারাপার হতে হবে। এজন্য পথচারীকে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে। কারণ অধিকাংশ জায়গা ফুটওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সড়কের ওপর দিয়ে রাস্তা পারাপার হয়। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে আরো অধিকসংখ্যক ফুটওভারব্রিজ প্রয়োজন।

তাহলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা নামক মৃত্যুকূপ থেকে চালক এবং পথচারীরা বাঁচতে পারবে ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

লেখক :শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম

উৎস: ইত্তেফাক

শেয়ার করুন