সিলেটে কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতাল নির্মাণে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস পরিকল্পনা মন্ত্রীর

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
সিলেটের সকাল রিপোর্ট : প্রায় একশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে শুক্রবার সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের কিডনী হাসপাতাল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেট সদর উপজেলার নাজিরেরগাঁওয়ে প্রায় ২ বিঘা জমিতে হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এ হাসপাতালের নির্মাণের প্রশংসা করেন এবং এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার জন্য হাসপাতালের ভ‚মিদাতা জুবায়ের আহমদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তাঁর সরকারের এবং ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। মন্ত্রী কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতাল নির্মাণে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান আধুনিক ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দেশে ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরী করা হয়েছে। এসব ক্লিনিকে সেবার মান বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ কিডনী ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি প্রফেসর ডা. হারুন-উর রশিদের পরামর্শ অনুযায়ী কিডনীরোগ প্রতিরোধে এসব কমিউনিটি ক্লিনিকের সংশ্লিষ্টতা বাড়ানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ঠা রাশেদা কে চৌধুরী ও কিডনী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি প্রফেসর ডা. হারুন-উর রশিদ, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর হাতে নৃশংস হত্যার শিকার সিলেট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তৎকালীন স্বনামধন্য চিকিৎসক শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদের ছেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কিডনী বিশেষজ্ঞ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমদ।
কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেট-এর সাধারণ সম্পাদক বীর প্রতীক কর্নেল এম এ সালাম (অব.) এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কিডনী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাইনি ফেরদৌস রশীদ, কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেট-এর ট্রেজারার জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মুন্সেফ আলী, বিশিষ্ট কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নজমুস সাকিব, মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সালমা বাছিত ও টুকের বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস শহীদ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, দশ তলাবিশিষ্ট সিলেট কিডনী হাসপাতাল হবে ১১০ শয্যার। ২০২২ সালে এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ হাসপাতাল নির্মাণে এর মধ্যে সরকারি অনুদান পাওয়া গেছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। উদ্যোক্তারা যোগান দেবেন বাকি অর্থ। ঢাকাস্থ ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ হসপিটাল-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি)-এর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

শেয়ার করুন