লিডিং ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের ‘রেলওয়ে প্রোটেকশন সিস্টেম’ উদ্ভাবন

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: লিডিং ইউনিভার্সিটির ইলেট্রিকাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২৩তম ব্যাচের ৩ শিক্ষার্থী বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য তৈরী করেছেন ‘রেলওয়ে প্রোটেকশন সিস্টেম’। লিডিং ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের লেকচারার মো. মুনতাসির রশীদ এবং মো. আশরাফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ২য় বর্ষের ‘প্রোজেক্ট শো-কেসিং’-এ তারেক আনোয়ার শিকদার, ফাহাদ বিন আইয়ুব ও শেখ ফয়সালের সমন্বয়ে তৈরী হয় এই সিস্টেম।

বিগত অনেকদিন থেকে বাংলাদশের রেলপথে ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা, যা সীমিত করার জন্যই মূলত এই উদ্যোগ। পাতের কম্পনের মাধ্যমে জানা যাবে ট্রেন ক্রসিং ওভার থেকে কতদূরে আছে এবং যখনই ট্রেন ক্রসিং ওভারের কাছাকাছি চলে আসবে অটোমেটিক্যালি সেটা ক্রসিং ওভারের গেইট বন্ধ করে দিবে। ট্রেনের সাথে ট্রেনের সংঘর্ষ প্রতিহত করার জন্য শিক্ষার্থীরা এমন একটি ডিভাইস তৈরী করেছে যেটা প্রত্যেকটি ট্রেনের সাথে লাগানো থাকবে এবং সেটা তার পথ স্ক্যান করবে যার মাধ্যমে ট্রেনের চালক বুঝতে পারবে তার যাত্রাপথে কোনো বাধা আছে কিনা। যদি কোনো বাধা থাকে তাহলে ট্রেনচালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনের ইঞ্জিন বন্ধ করে দিতে পারবে।

রেলপথের নিরাপত্তার জন্য এমন একটি রেল-কার তৈরী করা হয়েছে, যেটা দ্বারা রেললাইনে কোনো সমস্যা বা ত্রুটি আছে কিনা তা জানা যাবে এবং যে জায়গায় সমস্যা আছে সেটার লোকেশন পাঠিয়ে দিবে রেলস্টেশন মনিটরের কাছে, যাতে করে সেই জায়গার সমস্যা দূর করা যায়। যদি কোনো কারণে ট্রেনটি তার রেলপথে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়, তাহলে যে জায়গায় ট্রেনটি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে সেই জায়গার লোকেশন ট্রেনস্টেশনে সাথে সাথে চলে যাবে। যাতে সমস্যা থেকে তাড়াতাড়ি উদ্ধার হওয়া যায় ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়। সেইসাথে ট্রেনের ইঞ্জিন শক্তি কম খরচ হওয়ার জন্য ট্রেনটিকে নবায়নযোগ্য ট্রেন হিসেবে বানানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

উক্ত ‘প্রজেক্ট শো-কেসিং’-এ লিডিং ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক রুমেল এম.এস. রহমান পীর উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রোজেক্টটির প্রশংসা করেন এবং সাথে সাথে কিভাবে প্রোডাক্টিভ ও ভবিষ্যতে সেটাকে আরো তথ্যপ্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এ্যাডভান্সড টেকনোলজি তৈরী করা যায় তার দিকনির্দেশনা দেন।

শেয়ার করুন