মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণের পাশাপাশি তাদেরকে পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে

সিলেটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক

দক্ষিণ সুরমা ও বালাগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২ হাজার ৩ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণ করা হবে। পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে। যেসব স্থানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে সেই সব স্থান সংরক্ষণ করা হবে। পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের যে ইতিহাস লিখা হয়েছে, ঠিক সেই ভাবে রাজাকারদের অপকর্ম তুলে ধরা হবে। যাতে আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।
মন্ত্রী শুক্রবার বিকাল ৩টায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ সুরমা ও বালাগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ছিলো সংগ্রামী জীবন। ’৪৭ এর রেফারেন্ডাম, ’৫২ ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন সহ বাঙালি জাতির সকল মুক্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সহ ২৩ জনকে হত্যা করা হয়। মুস্তাক-জিয়া ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের রক্ষা করে। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করলে তা পাশ হয় এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে আদালতের রায়ে কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী যারা এখনো পলাতক রয়েছে তাদেরকে দেশে এনে বিচারকার্যকর করা হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী ইমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রকৌশলী আফছর আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য বাণিজ্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমি মহান জাতীয় সংসদের যুদ্ধারাধিদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপনের পাশাপাশি বীর মুক্তিযুদ্ধের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি সহ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবী জানাইয়।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী মিন্টু চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে সূচিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, এলজিইডি ঢাকার প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হাকিম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (বালাগঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্বে) এ.এস.এম জাহিদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ সাইফুল আলম, বালাগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা করুণাময় দাশ। উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এস.এম মহসিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক, লুৎফুর রহমান লেবু, আকরাম হোসেন, কুটি মিয়া ও শফিক মিয়া, দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আনহার মিয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহববুর রহমান, বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন, সিলাম ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম হোসেন বকস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা মসজিদের ইমাম আব্দুল বাছিত সেলিম। গীতাপাঠা করেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সত্য ব্রত রায়।

শেয়ার করুন