সিলেটে বাড়ছে এইডস রোগী, ওসমানীতে সুস্থ সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৫৬ জন মা

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেট অঞ্চলে এইচআইভি সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ছে। এ বছরে নতুন করে ৪৯ জন এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে। যাদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী ও তাদের স্বজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভাষ্য মতে, প্রবাসে অবস্থানরতদের ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান না থাকা ও বিদেশ যাওয়ার আগে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত কাউন্সিলিং না হওয়ায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। দেশে আসার পর তাদের কাছ থেকে স্ত্রীদের মধ্যেও এ ভাইরাস ছড়াচ্ছে।

এইচআইভি আক্রান্তদের নিয়ে সিলেট বিভাগে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা আশার আলো সোসাইটি এবং সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টার। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, সিলেটে এখন পর্যন্ত সনাক্ত হওয়া এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ৯৫১ জন, এর মধ্যে মারা গেছেন ৩৯৪ জন।

বাকীদের মধ্যে ৫০১ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে অবস্থিত এআরটি সেন্টার হতে নিয়মিত ঔষধ সেবন করে যাচ্ছেন। এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বরে এইডস আক্রান্ত জীবিত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৩৬ জন।

২০১৩ সালে সিলেটে এআরটি সেন্টার কাজ শুরু করে। এরপর থেকে রোগীদের মধ্যে ঔষধ এবং অন্যান্য সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি এইচআইভি আক্রান্ত মা হতে শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে এইচআইভির নতুন সংক্রমণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইউনিসেফের সহায়তায় ওসমানী এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পিএমটিসিটি প্রকল্প চলমান আছে। এপর্যন্ত ওসমানী হাসপাতালের সেবার আওতায় ৫৬ জন এইচআইভি আক্রান্ত মা সুস্থ সন্তান জন্ম দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পিএমটিসিটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মোঃ মোতাহের হোসেন।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ মোঃ ইউনুছুর রহমান বলেন, ‘এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের সেবা প্রদানে সিওমেক হাসপাতালের চিকিৎসকগন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে এসব মানুষকে সেবাপ্রদান করে আমাদের চিকিৎসকগন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সিলেট বিভাগের এইচআইভি নিয়ে বেঁচে থাকা রোগীরা সারা বছর এই হাসপাতাল থেকে তাদের প্রয়োজনীয় ঔষধসহ অন্যান্য সেবা নিয়ে থাকেন।’

এদিকে, বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে রোববার দুপুরে সিওমেকে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। হাসপাতালের পরিচালকের নেতৃত্বে হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধতন কর্মকর্তা, অধ্যাপক, চিকিৎসক, সেবিকা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী ও সেবা গ্রহীতাগন র‌্যালিতে অংশগ্রহন করেন।

হাসপাতলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ ইউনুছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে হাসপাতালের এইচআইভি কার্যক্রম নিয়ে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আবসিক চিকিৎসক ডাঃ আবু নঈম মোহাম্মদ।

আলোচনা পর্বে অংশ গ্রহন করেন রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ এফএমএ মোঃ মুসা চৌধুরী গাইনী বিভাগের প্রধান ডাঃ নাসরিন আক্তার, নবজাতক বিভাগের ডাঃ মোঃ আব্দুল হাই মিয়া সহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকবৃন্দ।

সভায় আলোচকগন সিলেটের এইচআইভি কার্যক্রম গতিশীল করতে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহন নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় বক্তাগন বলেন যেহেতু অভিবাসী অধ্যূষিত এলাকা তাই এখানে এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রমের আঙ্গীক একটু ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে।

অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী পরিচালক ডাঃ মোঃ আবুল কালাম আযাদ, সেবা তত্ত্বাবধায়ক, নাসিং এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, তৃতীয় শ্রেনী কর্মচারী সমিতির সভাপতি ও চতূর্থ শ্রেণরি সরকারী কর্মচারী সমিতির সভাপতি, পিএলএইচআইভি নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি প্রমুখ।

শেয়ার করুন