উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ: জেলায় জেলায় রেল-সড়ক অবরোধ, আগুন

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা স্টেশনে ট্রেনে অগ্নিসংযোগ। ছবি: পিটিআই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গত দু’দিনে বিক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে এলাপাথাড়ি পাথর ছোড়ার পাশাপাশি একাধিক স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধের সঙ্গে বাস এবং গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটছে।- খবর আনন্দবাজার

রাজ্যের এমন পরিস্থিতিতে এ বার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দিলেন, বিক্ষোভের নামে বাসে আগুন ধরানো, ট্রেনে পাথর ছোড়া এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানেও কাজ হল না। শনিবার সকাল থেকেই নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় শুরু হয় বিক্ষোভ, রেল-সড়ক অবরোধ। কোথাও আবার বাস-গাড়িতে ভাঙচুর চালোনোর মতো ঘটনা ঘটছে। বিক্ষোভ ধীরে ধীরে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

দেশের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির পাশাপাশি শুক্রবারে এই আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের আঁচ এ রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর থেকেই অশান্ত হয়ে ওঠে উলুবেড়িয়া, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা-সহ রাজ্যের বেশ কিছু অঞ্চল। বিক্ষোভের আঁচ পড়ে খাস কলকাতায়। আইন নিজেদের হাতে তুলে না নেওয়ার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপাল। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

এ দিন সকাল থেকেই ডোমজুড়ের সলপ মোড়ে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলছে। কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ চলে। বেশ কয়েকটি সরকারি বাসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা লাঠিচার্জও করতে হয় পুলিশকে। অন্য দিকে, মুর্শিদাবাদের সুতিতেও বাসে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।

শিয়ালদহ ডিভিশনের বারাসত-হাসনাবাদ শাখায় বিক্ষোভের জেরে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে। হাসনাবাদ শাখার সোঁদালিয়া-লেবুতলা স্টেশনের মাঝে অবরোধ করা হয়। অন্য দিকে, লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা শাখায় রেলের ওভারহেড তারে কলাপাতা ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। ফলে সকাল ৮টা থেকেই ওই শাখায় ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মালদহ ডিভিশনের আজিমগঞ্জ শাখাতেও বিক্ষোভের জেরে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়েছে বহু ট্রেন। যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

জঙ্গিপুর, মহিপাল-সহ বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাসুদেবপুরে হল্ট স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। সাঁকরাইল স্টেশনে বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্য দিকে, এই অবরোধের জেরে হাওড়ার দক্ষিণ-পূর্ব শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে রয়েছে লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন।

অবরোধ-বিক্ষোভের সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবায়। স্টেশনে স্টেশনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রীতি মতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। এ সব ঘটনার জেরে বহু দুরপাল্লার ট্রেন যেমন বাতিল হচ্ছে, তেমনই লোকাল ট্রেন চলাচলও থমকে গিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেল ইতিমধ্যেই একাধিক ট্রেন বাতিল ঘোষণা করেছে। অনেক ট্রেন পরিস্থিতি অনুযায়ী চালানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন