স্বামীর মৃত্যুর পাঁচ দিনের মাথায় ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেলেন স্ত্রী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি \ শ্রীমঙ্গলে স্বামীর লাশ দাফনশেষে চট্টগ্রামে ফেরা হলো না স্ত্রী জাহেদা বেগমের(৪০)। স্বামীর মৃত্যুর পাঁচ দিনের মাথায় মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন স্ত্রী।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে একটি জাহাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোণ ইউনিয়নের গাজিপুর এলাকার মুসলিম মিয়া। পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকতেন। জাহাজে দুর্ঘটনায় গত ৭ নভেম্বর মারা যান মুসলিম মিয়া। গত শনিবার স্বামীর লাশ নিয়ে তিন সন্তানসহ শ্রীমঙ্গলের গ্রামের বাড়িতে আসেন মুসলিম মিয়ার স্ত্রী জাহেদা বেগম (৪০)।
গ্রামের বাড়িতে স্বামীর দাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার রাতে চট্টগ্রাম ফিরে যাওয়ার জন্য শ্রীমঙ্গল স্টেশন থেকে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠেছিলেন জাহেদা। তারা ট্রেনে চড়ার কিছুক্ষণ পরই ঘটে দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারান জাহেদা বেগম (৪০)। গুরুতর আহত হয় জাহেদার তিন সন্তান – ইমন (১৫), সুমি (১০) ও মিম (২)। আহত হন ওই ট্রেনে থাকা তার(জাহেদা) মা হাজেরা বেগম। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোন ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে জাহেদার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বিলাপ করছেন জাহেদা বেগমের আত্মীয় স্বজনরা। সকাল থেকে এলাকার লোকজন এসে ভিড় করছেন বাঁশ আর টিনের বেড়ার ভাঙ্গাচোরা বাড়িটিতে।
স্থানীয় বাসিন্দা টিটু মিয়া জানান, গত শনিবার আমরা জাহেদার স্বামী মুসলিম মিয়াকে দাফন করেছি। রোববার স্বামীর কুলখানি শেষ করে জাহেদা তার বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষা দেওয়ানোর জন্য চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। সেখানে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
জাহেদা বেগমের ননদ জোৎস্না বেগম বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনায় আমার ভাইকে হারিয়েছি। তার পাঁচদিনের মাথায় আমরা ভাবীকেও হারিয়ে ফেললাম। আমার ভাইয়ের ছেলেমেয়েগুলো এখন এতিম হয়ে গেলো।
প্রসঙ্গত, সোমবার ভোর পৌনে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন ও ত‚র্ণা নিশীথার মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন নিহত হন ও আহত হন অর্ধশতাধিক যাত্রী।

শেয়ার করুন