সিলেটের সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন রবীন্দ্রনাথ:মুহিত

সিংহ বাড়ীতে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণোৎসব উদযাপন

বক্তব্য রাখছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সিলেটের সংস্কৃতিকে বিশ^দরবারে তুলে ধরতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান অতুলনীয়। শতবর্ষ পূর্বে সিংহবাড়ীর সদস্যরা যেভাবে কবিগুরুকে বরণ করেছিলেন শতবর্ষ পরেও সে বাড়ির তৃতীয় প্রজন্ম যেভাবে তা উপস্থাপন করলেন তা অবিস্মরণীয়। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিকাশই আমাদের সমাজকে আরো আলোকিত করতে পারে।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় নগরীর চৌহাট্টাস্থ সিংহবাড়ীতে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণোৎসব উদ্যাপন অনুষ্ঠানে কবিগুরুর সৃষ্টিশীল কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
সাংস্কৃতিক সংগঠক সুমন্ত গুপ্ত ও সুকান্ত গুপ্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘রবি বন্ধনা’ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজসেবী জ্যোর্তিময় সিংহ মজুমদার চন্দন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম.এ মান্নান এমপি সিংহবাড়ীর পক্ষ থেকে নান্দনিক এ আয়োজনের প্রশংসা করেন। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৌহাটি বিশ^বিদ্যালয়ের ভ‚তপূর্ব ডীন অধ্যাপক ঊষা রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি তার বক্তব্যে সিলেটের মণিপুরী নৃত্যকে বিশে^র দরবারে তুলে ধরতে এবং সিলেটবাসীর সাহিত্যানুরাগ বাড়াতে কবিগুরুর অবদান তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর এম.এ আজিজ বলেন, শতবর্ষ পূর্বে কবিগুরু যে সিলেট এসেছিলেন, তখনকার কেউ আজ বেঁচে নেই। কিন্তু সিংহবাড়ীর উত্তরাধিকারীরা আজও তার স্মৃতিতে উজ্জল হয়ে আছেন।
অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন সচিব এম.এ মুমিন, সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণোৎসব উদ্যাপন পর্ষদের সদস্য সচিব সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক ব্যারিস্টার আরশ আলী, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আশফাক আহমদ প্রমুখ।
এদিকে সকাল সাড়ে ৮টায় কবিগুরুর প্রতিকৃতি সহ চৌহাট্টা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সম্মুখ থেকে শোভাযাত্রা সহকারে সিংহবাড়ীতে আগমন, স্থাপন ও প্রতিকৃতিতে মাল্যদান তৎপর উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন করে দিনের প্রথম পর্বের উদ্বোধন করেন সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী মহারাজ ও সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বিজিত কুমার দে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিংহবাড়ীর পক্ষে এডভোকেট সুজয় সিংহ মজুমদার। সকাল ৯টায় প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রভাতী আয়োজনে অংশগ্রহণকারী সংগঠন সমূহ হচ্ছে সংগীত নিকেতন, সারে গা মা পা, শিশুতীর্থ, সুরাঞ্জলি, সিংহবাড়ী, তারুণ্য সুরের ভুবন।
১ম অধিবেশনে ‘চিত্রকল্পে রবীন্দ্রনাথ’ তরুণ প্রজন্মের ১১জন চিত্রশিল্পী তাদের ভাবনায় রবীন্দ্রনাথকে ফুটিয়ে তুলেন মনের ক্যানভাসে। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন সিলেটের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাশ গুপ্ত। অংশগ্রহণকারী চিত্রশিল্পীরা হচ্ছেন দ্বীপ দাস, সুমন দেব, সুদীপ্তা বিশ^াস, তাসলিমা আক্তার, লুৎফুন্নাহার রা¯œা, প্রীতম তালুকদার, মাসুম আহমদ, বিজয় নাথ, ¯িœগ্ধা পাল, জাকি হুসাইন, আব্দুল মালিক নোবেল প্রমুখ।
বৈকালিক অধিবেশনে অংশ গ্রহণ করেন শিল্পাঙ্গন, অনির্বান, গীতবিতান বাংলাদেশ, শ্রæতি, আনন্দলোক, নৃত্যশৈলী, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, ছন্দ নৃত্যালয়, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, এমকা, শান্তনা দেবী (দলীয় মণিপুরী নৃত্য)।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সংগীত শিল্পীদের মধ্যে সংগীত পরিবেশন করেন রানা কুমার সিনহা, প্রতীক এন্দ, অনিমেষ বিজয় চৌধুরী, সুমনা আজিজ, বর্ষা মজুমদার পাপড়ি, শুক্লা চৌধুরী, সুস্মিতা চৌধুরী শাওন, অরুন্ধতী দত্ত পৃথা, ঢাকার বিশিষ্ট সংগীত শিল্পীদের মধ্যে সংগীত পরিবেশন করেন আঞ্জুমান আরা বকুল, নার্গিস রাহমান, মারিয়া ফারিন উপমা, প্রোটন বিশ^াস, ভারত থেকে আগাত সংগীত শিল্পী শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার ও ড. পূবালী দেবনাথ।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সাংস্কৃতিক সংগঠক সুমন্ত গুপ্ত, সুকান্ত গুপ্ত ও নন্দিতা দত্ত। অনুষ্ঠানে ভারত, ঢাকা ও সিলেটের বিপুল সংখ্যক সাহিত্যামোদী ও সংস্কৃতিসেবীদের স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশ গ্রহণে এক মিলন মেলায় পরিণত হয় সিলেটের সিংহবাড়ী। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে আপ্যায়ন করা হয়।
উৎসবে দল মত নির্বিশেষে সকলের অংশ গ্রহণ ও সহযোগিতায় এক সার্থক অনুষ্ঠান উপস্থাপনে সিংহবাড়ীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সঞ্জয় সিংহ মজুমদার, ডাঃ সুধাময় মজুমদার ও ব্যাংক কর্মকর্তা সৌমিত্র সিংহ মজুমদার শুভ। বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার করুন