মামলার বাদি হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকিতে ওসমানীনগরের তাজুল!

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করায় আসামি কর্তৃক প্রাণনাশের শঙ্কায় রয়েছেন সিলেটের ওসমানী নগর উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের প্রবাসী রহিম উদ্দিনের বাড়ির কেয়ারটেকার তাজুল ইসলাম। আসামিরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই তাকে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে, এ কারণে তিনি বাড়ি ছাড়া বলেও দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরিপুর ইউনিয়নের নতুন সুনামপুর গ্রামের মৃত মখলিছুর রহমানের পুত্র তাজুল ইসলাম। তিনি প্রায় ১৮/১৯ বছর ধরে প্রবাসী রহিম আলীর বাড়িতে কেয়ার টেকারের দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের হুমকির কারণে বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বলেও দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘তিনি কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তার মাধ্যমে প্রবাসী রহিম আলীর বিনিযোগের কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আয় উন্নতি ঘটতে থাকে। বিষয়টি রহিম আলীর সৎ ভাতিজা রকিব আলীর নজরে এলে তিনি তাকে সরিয়ে নিজেই কেয়ারটেকারের দায়িত্ব নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন। সেই লক্ষে গত মে মাসের শুরুর দিকে রকিব আলী তার চাচা প্রবাসী রহিম আলীকে ফোন করে জানান, কেয়ারটেকার ঠিক মতো সবকিছু দেখে রাখতে পারছে না। এ সময় হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকটি জাল মেমো’র কপি রহিম আলী সাহেবের কাছে পাঠিয়ে বলেন, আমি রহিম আলীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা না দিয়ে আমার নিজের নামের অ্যাকাউন্টে জমা দিচ্ছি। এটা বলে রকিব আলী তাকে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব দিয়ে আমাকে বিদায় করে দেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু রহিম আলী এর সত্যতা না পেয়ে তাতে সম্মত হননি। যে কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন রকিব আলী।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত মে মাসের ২০, ২১ ও ২৬ তারিখে এরপর রকিব আলী তার দলবল নিয়ে তার উপর কয়েক দফা হামলা করে মারধোর এবং বেঁধে রেখে গলায় ছুরি ধরে গরু ও মাছ বিক্রির নগদ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ঘরে রক্ষিত ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকার দেড়শত মন ধান এবং ৩ লক্ষ টাকা মুল্যের ষাড় ও ৫০ হাজার টাকা মূল্যের গাভি ও বাছুর, ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের দেশী মোরগ এবং ফিসারী থেকে ১ লক্ষ টাকার মাছ নিয়ে যান। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৯ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদ চুরি ও লুট করে নেন তারা। এ সময় রকিব আলীর সঙ্গে ছিলো ছুরক আলী, রোমন আলী, মিছির আলী, ফয়সল মিয়া ও মনোহর আলী।’

তিনি বলেন, ‘রহিম আলীর একটি মোদির দোকান তার ভাতিজা চালাতো। তারা সেই দোকানের চাবিও ছিনিয়ে নিয়ে মালামাল সরিয়ে নেন। রকিব আলী ও তার দলবল প্রাণে মারার হুমকি দিলে তাজুল নিরাপত্তার অভাববোধ করেন এবং তার নিজ বাড়িতে চলে যান। তিনি চলে যাওয়ার সুযোগে রকিব আলীরা রহিম আলীর ঘরে থাকা দামি ক্যামেরাসহ মুল্যবান জিনিস পত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রবাসী রহিম আলী দেশে ফিরলে তার পরামর্শ নিয়েই তাজুল নিজে বাদি হয়ে গত ৩০আগস্ট ওসমানীনগর থানায় একটি মামলা (নম্বর ১৪) দায়ের করেন। এই মামলায় পুলিশ ৬ আসামীকে গ্রেফতার করে এবং ১ নম্বর আসামী রকিব আলী এবং ৩ নম্বর আসামী রোমন আলী ছাড়া বাকিরা জামিনে মুক্ত রয়েছে।
তাজুল বলেন, গ্রেফতার হওয়া রকিব আলী ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেতাদেরই দেখানো স্থান থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত ছোরাসহ চুরি যাওয়া ধানের অংশ বিশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া পুলিশ মুল্যবান ক্যামেরাসহ অন্যান্য লুন্ঠিত মালামাল কোথায় আছে তা জানতেপেরেছে। খুব দ্রুত এ সকল মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হবে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন।’

তিনি বলেন, মামলা করার কারণে তিনি আসামিদের রোষানলে পড়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। তিনি প্রশাসনের প্রতি আমার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার আলী, আইয়ুব আলী, তৈয়ব আলী, শমসের আলী, ছুরাব আলী, আব্দুল হান্নান, সাহাব উদ্দিন, আনসার আলী,আরশাদ আলী, আক্কাস আলী, জুবের আলী, আব্দুল আলী, আনা মিয়া, আব্দুল নুর, আব্দুল তাহিদ, আছাদ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন