‘বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পড়াশোনার বিকল্প নেই‘

কোছাপের বৃত্তি বিতরণী অনুষ্ঠানে এমসি কলেজ অধ্যক্ষ

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি :: সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র চন্দ বলেছেন, ‘বখাটেদের উৎপাত থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ রাখতে হবে। মেয়েরা যেন নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ছেলে-মেয়েরা কার সাথে বন্ধুত্ব করছে, কার সাথে মেলামেশা করছে, খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্লাসে শিক্ষকদের পাঠদানে যত্নবান হতে হবে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পড়াশোনার কোন বিকল্প নেই। এজন্য পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হবে।’

কোম্পানীগঞ্জ ছাত্র কল্যাণ শিক্ষা ট্রাস্ট এর উদ্যোগে কোম্পানীগঞ্জ ছাত্র পরিষদ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কোম্পানীগঞ্জ ছাত্র কল্যাণ শিক্ষা ট্রাস্ট এর সভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্যের সভাপতিত্বে তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।’

তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে কোম্পানীগঞ্জ ছাত্র পরিষদ মেধাবৃত্তি প্রদান একটি প্রশংসনীয়, সাহসী ও দেশপ্রেমী উদ্যোগ। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের যোগ্য ও গৌরবময় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কোম্পানীগঞ্জ ছাত্র পরিষদের সভাপতি রূপক চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কোছাপের সাবেক সভাপতি ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলী দুলাল, কোছাপের সাবেক সভাপতি ও এমসি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ তোতিউর রহমান, এম. সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম, কোছাপের সাবেক সভাপতি ও সিলেটস্থ কোম্পানীগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হুমায়ুন কবীর মছব্বির, সাবেক সভাপতি মোঃ মোস্তাক আহমদ, সাবেক সেক্রেটারী ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সাবেক পরিচালক মোঃ মুজিবুর রহমান মিন্টু, সাবেক সভাপতি ও সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট হাবিবুর রহমান ভুট্টো, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজল কুমার কানু, ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, কোছাপের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাষ্টার মোঃ আবুল খায়ের, কোছাপের সাবেক সভাপতি মোঃ বশারত আলী বাশার, কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবিদুর রহমান, কোছাপের সাবেক সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন ও ব্যবসায়ী মাসুক মিয়া। বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক শৈলেন চন্দ্র নাথ, কোছাপের সহ সভাপতি জায়েদুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুফেদ বক্স, নুরুল মুত্তাকিন ও এহসানুল মাহবুব প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে কোম্পানীগঞ্জ ছাত্র কল্যাণ শিক্ষা ট্রাস্ট এর সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য বলেন, নারীদের রাস্তাঘাটে কিংবা স্কুল-কলেজ থেকে ফেরার পথে কেউ ইভটিজিং করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে এগিয়ে নিতে বর্তমান প্রজন্মকেই এগিয়ে আসতে হবে। পড়ালেখার মাধ্যমে নিজেদেরকে যোগ্য নাগরিক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

কোছাপের সাবেক সভাপতি ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলী দুলাল বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে কোম্পানীগঞ্জ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এ পশ্চাদপদতা কাটাতে কোম্পানীগঞ্জের সচেতন মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ভালো মানুষ হবার জন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে হবে।

অধ্যাপক তোতিউর রহমান বলেন, কথায় আছে, যে সমাজে গুণীর কদর নেই, সে সমাজে গুণীর জন্ম হয় না। এজন্য গুণীজনদের সম্মান দেখাতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা যারা আজকে সম্মানিত হলে তোমাদের পড়াশোনা করে বড় কিছু হতে হবে। তোমাদেরকে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে।

নিজেদের আদর্শ ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া জনপদ কোম্পানীগঞ্জ কিছু গুণী মানুষের জন্ম দিয়েছে। যারা দেশ-বিদেশে কোম্পানীগঞ্জের সুনাম বয়ে বেড়াচ্ছেন। বর্তমান প্রজন্মকে তার পথ ধরেই এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৯ জন মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির টাকা ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন