প্রভাবশালী চক্রের হাত থেকে বসতভিটা রক্ষার দাবি যুক্তরাজ্য প্রবাসীর

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: প্রভাবশালী চক্রের হাত থেকে নিজের বসতভিটা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. আছাব মিয়া। একই সাথে দখলদারদের হুমকির কারণে তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গোয়ালাবাজারের গ্রামতল রোডস্থ আছাব ভিলা নামে তার মালিকানাধীন বসতভিটা রয়েছে, যেখানে তিনি ১৯৮০ সাল থেকেই বসবাস করছেন। তিনি প্রবাসে গেলেও তার পরিবারের সদস্যরা সেখানেই থাকেন। তবে গত একবছর ধরে একটি ভূমিখেঁকো চক্র এ বাড়ি দখলের পাঁয়তারা করছে। একই সাথে তার পরিবারের সদস্যদের নানা ধরনের ভয়ভীতিও দেখাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বালাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন চান্দাইপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উল্ল্যার পুত্র বোয়ালজুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিক আহমদ, ওসমানীনগরের দাশ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা গোয়ালাবাজার পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও উপজেলা বিএনপি নেতা তাজ উদ্দিন, দ্বাবিদার দাশপাড়া গ্রামের সজল দেব ও বর্তমানে গোয়ালাবাজারের গ্রামতলা এলাকায় বসবাস কারী খুজগীপুর গ্রামের বাদল দেব গংরা জোরপূর্বক আমার মালিকানা বসতবাড়ি দখল করতে মরিয়া হয়ে। এ ব্যাপারে আমি সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার ও প্রবাসী কল্যান সেলসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছেন।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র অনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষে বিএনপি নেতা রফিক আহমদের নেতৃত্বে চলতি বছরের প্রথম দিকে তার বাড়ি সংলগ্ন সরকারি এলজিইডির রাস্তা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে অবৈধ ভাবে কেটে ময়লা আবর্জনা ফেলার নালা তার (আছাব) বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ভিতরে নির্মিত ড্রেনের সাথে সংযোগ করে দেন। এর ফলে পরিবেশ বিপর্যয়সহ দুর্গন্ধে লোকজন বাড়িতে বসবাস করতে নানা অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছিল। এ খবর পেয়ে গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি দেশে আসেন।’

তিনি বলেন, দেশের আসার পর তিনি রফিকের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে কোন সদুত্তর পাননি। এজন্য তিনি গত ৯ জুন রফিক আহমদসহ তার সহযোগিদের নাম উল্লেখ করে গোয়ালাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক সাহেবের কাছে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানও কোন সুরাহা করতে পারেনি। পরে আমি নিজ উদ্যোগে ওই নালাটি বন্ধ করে দিলে রফিকরাও আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা আমার বাড়ি দখলের পায়তারাসহ আমার পরিবারের ক্ষতি সাধন করার অব্যাহত হুমকি প্রদান করতে থাকে। ওই সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা আমার স্ত্রী সন্তানের ক্ষতি সাধন করার আশংঙ্কায় ক্রমাগত হুমকির কোনো প্রকার প্রতিবাদ না করে নিরবে সহ্য করি। এমন পরিস্থিতিতে আমি পরিবার রেখে প্রবাসে যেতেও ভয় হচ্ছে। ফলে যুক্তরাজ্যে সকল কাজকর্ম ফেলে রেখে বিগত ৫ মাস ধরে আমি দেশে অবস্থান করায় প্রবাসে আমার কাজকর্মের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে।’

তিনি রফিক আহমদ, তাজউদ্দিনসহ তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উধ্ধর্তন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণও করেন।

শেয়ার করুন