দেড়শ’ বছরেও দেড়শ’ টাকা হয়নি চা শ্রমিকদের মজুরি!

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :: ‘বাংলাদেশে চা শিল্পের দেড়শত বছর পার করতে যাচ্ছে। তবে এই সময়েও এ শিল্পের ‘প্রাণ’ চা শ্রমিকদের মজুরি দেড়শত টাকা হয়নি। একই সাথে উপযুক্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান- সব ক্ষেত্রেই বঞ্চিত রয়েছেন তারা।’

নিজেদের অধিকার বঞ্চিত থাকার কথা এভাবেই তুলে ধরলেন জুড়ি চা ভ্যালির সহ সভাপতি ও চা নারী নেত্রী শ্রীমতি বাউরী। তিনি বললেন, ‘চা বাগানগুলোতে পর্যাপ্ত সরকারি স্কুল নেই, স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই, ঠিকমত খাবার পায় না, অথচ এই চা শ্রমিকদের শ্রমে ঘামে দেশের চা শিল্প আজ এতদূর এগিয়ে গেছে।’

‘কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার’-শীর্ষক এক সভায় তিনি এও বললেন, ‘এখনও চা বাগানগুলোতে বাবু সাহেবদের দ্বারা নারী শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত যৌন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সামাজিক পরিস্থিতি আর জীবিকার তাগিদে মুখ ফুটে তাঁরা প্রতিবাদ করতে পারে না।’

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে চা শ্রমিক সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন চা ভ্যালি থেকে আসা চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেয়।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. মাহবুবুল হাসান এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম।

তিনি বলেন, ‘জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা রোধ এবং নারী শ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলো কাজ করে যাচ্ছে। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে হলে বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীগণকে এগিয়ে আসতে হবে। আর নারীর প্রতি সহিংসতা বজায় থাকলে এটি কখনোই সম্ভব হবে না। বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব সরকার উল্লেখ করে সচিব বলেন, নারীরা এখন দেশের বড় বড় জায়গা থেকে দেশে অবদান রাখছেন। কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা এবং যেকোন ধরনের অশোভন আচরণ রোধে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় বলেন, পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল সেক্টরে কর্মরত নারীদের শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। নারী শ্রমিকদের প্রতি শোভন আচরণ নিশ্চিতে ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান (অতিরিক্ত সচিব), শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব নাহিদুল ইসলাম, অধিদপ্তরের তথ্য ও গণসংযোগ কর্মকর্তা ফোরকান আহসান, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাখন লাল কর্মকার ও সাধারণ সম্পাদক রাম ভোজন কৈরিসহ শ্রমিকবৃন্দ ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন ।

শেয়ার করুন