দুই বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মসজিদের ইমাম হাফিজ মুশাহিদ!

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: জোরপূর্বক জমির মালিকানা দাবি। মালিকানার দাবিদাররা প্রভাবশালী। ফলে তারা নির্যাতনের পাশাপাশি জমি দখলে নিতে একাধিক মামলাও করেছে। প্রাণনাশের হুমকিও রয়েছে। একই সাথে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে পরিবারকে। আর এ পরিবারের প্রধান হাফিজ মো. মুশাহিদ আলী নিরাপত্তাহীনতার কারণে দুই বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যেতে পারছেন না নিজের পৈতৃক নিবাসে। তার পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন নিরাপত্তাহীনতায়। শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষাগ্রহণ থেকেও।

শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন হাফিজ মো. মুশাহিদ আলী। তিনি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৮নং তোয়াকুল ইউনিয়নের ফুলতৈলছগাম গ্রামের তজমুল আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের বড় ইসবপুর উত্তর পাড়াস্থ সৈয়দ শাহ্ ধামড়ি (র:) পীরের বাড়ি দরগাহ জামে মসজিদে ইমাম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালের ১৮ অক্টোবর তার পিতা তজমুল আলী ফুলতৈলছগাম মৌজার অন্তর্ভুক্ত জেএলনং-১৭১, এসএ সার্ভে রেকর্ডকৃত ১৫৭ ও ৪৪ নং খতিয়ানের ৪১০ ও ৪০৮ নং দাগের ৩৮শতক ভূমি ক্রয় করেন। এরপর থেকেই সেই জমিতে তারা ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছেন। তবে ওই গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে ছয়ফুল আলম গংরা ৩৮শতক ভুমির মধ্যে ১৭শতক ভূমি জোরপূর্বক দখল করে মালিকানা দাবি করে। ছলছাতুরির মাধ্যমে এ ভূমি নিজেদের নামে রেকর্ডও করিয়ে নিয়েছে তারা।

এবিষয়ে তার পিতা বাদি হয়ে ২০১৮ সালে সিলেটের মাননীয় যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি সত্ত্ব মোকাদ্দমা দায়ের করেন। এ মামলা মামলা দায়েরে পর থেকে প্রভাবশালী আমির উদ্দিন, ছয়ফুল আলম ও তার স্বজনরা আরো হিং¯্র হয়ে ওঠে। তারা আমার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে মারধর ও নির্যাতন করে আসছে। একাধিক সাজানো মামলা দিয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছাড়া করাসহ হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি আমার পরিবারের সদস্যদের ‘একঘরি’ করেও রাখা হয়েছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্ত্বাহীনতায় রয়েছি।

তিনি বলেন, ছয়ফুল আলমরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা গ্রামের সালিশানদের কাছে গিয়ে ন্যায় বিচার না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হই। আদালতে মামলা দায়েরে পর প্রভাবশালীরা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা বিপাকে পড়ে যাই। প্রভাবশালীরা আমার বাড়ির বসতঘর গুঁড়িয়ে দেয়। পুলিশ জনগনের বন্ধু কিন্তু পুলিশের সহযোগীতায় আমাদের মাথা গুজার ঠাঁই ঘরটি ভেঙে দেয়ার ঘটনায় আমরা নির্বাক হয়েছি। এএসআই সুলায়মানের কাছে ঘর ভাঙার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন- যতদিন পর্যন্ত আমির উদ্দিনের উপর থেকে মামলা তুলে নেয়া না হবে ততদিন এখানে ঘর বানানো যাবেনা। আদালতে মামলা দায়েরের পর গ্রামের সালিশানরা বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তির লক্ষ্যে ১লক্ষ টাকা জামানত ধার্য করেন। কিন্তু আমরা গরিব ১লক্ষ টাকা দিতে অপারগতা জানালে তারা আমার পরিবারকে একঘরি করে রাখেন। আমার পরিবারের সদস্যদের গ্রামের রাস্তা দিয়ে চলতে দেওয়া হতো না। গ্রামের কোনো দোকান থেকে আমাদের কাছে সদাই পাতিও বিক্রি করা হতো না। যদি গ্রামের কোনো মানুষ আমাদের সাথে কথা বলতেন বা চলাফেরা করতেন তাহলে তাদের কাছ থেকে মুছলেখা আদায় করা হতো। গ্রামের একটি উন্নয়ন ফান্ডের থাকা টাকা সবাই পেলেও আমাদেরকে একঘরি করায় আমাদের প্রায় ২৪ হাজার টাকা এখনো পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, প্রভাবশালী ছয়ফুল গংরা আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারপিট করার পর আদালতে একটি মামলা দায়ের হয় তাদের বিরুদ্ধে। মামলাটি (গোয়াইনঘাট সিআর মামলা নং- ১০৪/২০১৮) দুই দফায় তদন্ত হয়েছে। সর্বশেষ ডিবির তদন্তেও ছয়ফুল আলমদের পক্ষাবলম্বন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে এই মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর একাধিক বার ওই পক্ষের লোকজন আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করেছে। এছাড়া তারা নারীদের শ্লীলতাহানীর চেষ্টাও করেছে। এসব বিষয়ে পুলিশের অভিযোগ করলেও তারা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যান। এক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতার করছেন পুলিশের এসআই বাছিদ ও এএসআই সুলায়মান কবির। এ দুজনও আমার পরিবারের সদস্যদের বারবার হুমকি-ধমকী দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মহিউদ্দিন আমাকে বারবার মোবাইলে কল দিয়ে তার সাথে দেখা করার কথা বলছেন। দেখা না করলে তিনি আমার নামে মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরণের অবৈধ অন্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

তিনি ছয়ফুল আলম ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে আমার নিরিহ পরিবারকে হয়রানির হাত থেকে রক্ষাসহ নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানান।

শেয়ার করুন