গবেষণার ওপরও জোর দিচ্ছে সিলেট প্রেসক্লাব ॥ এ এম এ মুহিত

রিসার্চ ফেলোশিপ পেলেন সেলিম আউয়াল

গল্পকার সেলিম আউয়ালের হাতে ফেলোশিপ তুলে দিচ্ছেন এ এম এ মুহিত

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ॥ প্রখ্যাত লেখক-গবেষক ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সিলেট প্রেসক্লাব বেশ পুরনো ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে এই ক্লাব গবেষণার উপর জোর দিচ্ছে, এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাব প্রবর্তিত সাংবাদিকতা বিষয়ে ফেলোশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতাপূর্ব সিলেটের সাংবাদিকতা ও সিলেট প্রেসক্লাব’ শীর্ষক গবেষণাকর্মের জন্য এবারের ফেলোশিপ দেয়া হয় লেখক, গবেষক সেলিম আউয়াল। বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশনার ২শ বছর পুর্তিতে সিলেট প্রেসক্লাব এ ফেলোশিপ প্রবর্তন করে।

সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবিরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী।

প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সিলেট প্রেসক্লাব ফেলোশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত আরো বলেন, সিলেট প্রেসক্লাব উপযুক্ত মানুষকে ফেলোশিপ প্রদান করেছে। সেলিম আউয়ালের সাহিত্য সাংবাদিকতা ও গবেষণায় সমান দখল রয়েছে। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সবসময় যে ফেলোশিপ দিতে হবে তা নয়, যখনই দেয়া হবে যাতে উপযুক্ত মানুষের হাতে দেয়া হয়। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রিসার্চ ফেলোশিপ প্রদানের মাধ্যমে সিলেটের সাংবাদিকতায় একটি নবযুগের সূচনা হলো। এ গৌরবের মুহূর্তে শরীক হতে পেরে তিনি আনন্দিত বলে মন্তব্য করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর নির্বাহী সম্পাদক গবেষক আবদুল হামিদ মানিক।

বক্তব্য রাখছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত

অনুভূতি প্রকাশ করেন ফেলোশিপপ্রাপ্ত সাংবাদিক সেলিম আউয়াল ও তার পরিবারের পক্ষে তান কন্যা সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. নাদিরা নুসরাত মাশিয়াত। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্লাব সদস্য লুৎফুর রহমান তোফায়েল। অনুষ্ঠানে সেলিম আউয়ালের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেলোশিপ সনদ, সম্মানী তুলে দেন প্রধান অতিথি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী বলেন, ফেলোশিপ প্রদান সিলেট প্রেসক্লাবের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। সেলিম আউয়ালের এই গবেষণা এক সময়ে ঐতিহাসিক কর্ম হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, সততা না থাকলে ভালো সাংবাদিক হওয়া যায় না। রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করলে কেউ কখনো খালি হাতে ফিরবে না। তথ্য পরিবেশনে সচেতন হলেই ইতিহাসে জায়গা করে নেয়া যাবে।

সেলিম আউয়াল অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, উপমহাদেশে বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশের ১৩ বছরের মাথায় সিলেটের গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য কলকাতায় সংবাদপত্র সম্পাদনা করেছেন। এইভাবে সিলেটের মানুষ সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইকরামুল কবির বলেন, সিলেট প্রেসক্লাবের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল এক ইতিহাস। সেই ইতহাসকে লিপিবদ্ধ করার মতো দু:সাহসিক কাজ সাংবাদিক সেলিম আউয়াল সম্পন্ন করেছেন। এই গবেষণার মাধ্যমে সেলিম আউয়াল সিলেটের সাংবাদিকতার ইতিহাসে নিজেকে যুক্ত করেছেন এক অনন্য কর্মে।

২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো সিলেট প্রেসক্লাব ফেলোশিপ প্রবর্তন করা হয়। এ ফেলোশিপের গবেষণার বিষয় ছিল ‘স্বাধীনতা পূর্ব সিলেটের সাংবাদিকতা ও সিলেট প্রেসক্লাব।’ প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্য সেলিম আউয়াল প্রায় দুই বছরব্যাপী কাজ করে ১৬টি প্রবন্ধে এ গবেষণা সম্পন্ন করেন। তার গবেষণা প্রবন্ধগুলো সময় সময় স্থানীয় দৈনিক সিলেটের ডাকে প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি তার এ গবেষণাটি সিলেট প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন করে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেলোশিপ সনদ প্রদান করা হয়।

 

শেয়ার করুন