কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আজ

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি \ ১৬ বছর পর আজ শনিবার সকাল ১১টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন-প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী মোঃ ইমরান আহমদ। বিকাল ৩টায় দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা, প্রাণচাঞ্চল্য চলছে। সম্মেলকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও মোড়ে শোভা পাচ্ছে তোরণ। সম্মেলনস্থল উপজেলা পরিষদ এলাকা ছেয়ে গেছে ব্যানার-ফেস্টুনে।
কে হচ্ছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক ? এ প্রশ্নকে ঘিরেই সবার আগ্রহ ৯ নভেম্বরের দিকে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৩ সালে। সেইবার সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মরহুম মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সাজিদুল হক। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক মোঃ আপ্তাব আলী কালা মিয়া। ২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর সাজিদুল হক মৃত্যুবরণ করেন। ফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন দলের প্রথম সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলী আমজদ। সেই থেকে অদ্যাবধি এই কমিটি দিয়েই চলছে দলের কার্যক্রম। কমিটির সিনিয়র অনেকে মারা গেছেন। অনেকে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ফলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
তবে দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হচ্ছে তাই নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার শেষ নেই। নতুন করে দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীদের মধ্যে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নতুন করে দলের নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে এ পর্যন্ত যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলী আমজদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আপ্তাব আলী কালা মিয়া, তেলিখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল ওয়াদুদ আলফু মিয়া, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোঃ রফিকুল হক , উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী ও সামছুল হক রড। সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবদীন, উপজেলা পরিষদের সাবেক অস্থায়ী চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইয়াকুব আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মছব্বির, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মোঃ শাহজাহান চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এডভোকেট মোঃ হাবিবুর রহমান ভুট্টো ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অখিল বিশ্বাস এর নাম শোনা যাচ্ছে।
কোন প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন হবে ? এ প্রশ্নে সভাপতি প্রার্থী ও বর্তমান সাধার সম্পাদক মোঃ আপ্তাব আলী কালা মিয়া বলেন, প্রথমে সমঝোতার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা রয়েছে। সমঝোতায় না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নেতা নির্বাচন করা হবে। তিনি জানান, উপজেলার ৬ ইউনিয়ন থেকে ১৮৬ জনসহ মোট ২৫৯ জন কাউন্সিলর ও ডেলিগেট নির্বাচন করা হয়েছে। তারা দলের নতুন নেতা নির্বাচন করবেন। উপজেলা অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দ্বিতীয় পর্বে হবে কাউন্সিল।
তেলিখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ আলফু মিয়া বলেন, আমরা নতুন মোড়কে পুরাতন মাল চাই না। আমরা চাই নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। যারা লড়াই সংগ্রাম করে দুর্দিনে দলকে সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচিত হোক এটাই চাই।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সিলেটস্থ কোম্পানীগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল হক বলেন, আমার প্রত্যাশা নতুন কমিটি প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ে গঠিত হবে। আমি চাই কাউন্সিলরদের ভোটে নেতা নির্বাচন হউক। তবে দল যে সিদ্বান্তই নেয় তা মেনে নিব।
সম্মেলনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে নেতাকর্মীদের মাঝে। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের তরুণ নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন। তবে নবীণ ও প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠিত হবে এমন আশা দলের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের। তবে সমঝোতার মাধ্যমেও নেতা নির্বাচনের তৎপরতা চলছে। ফলে অধিবেশনে গোলমাল হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক কাউন্সিলর।

শেয়ার করুন