কোম্পানীগঞ্জে দুই সহোদরের বিরোধে সৃষ্ট সংঘর্ষে আহত ৪

কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই সহোদরের বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছে। আহতরা হচ্ছে- উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ গ্রামের মৃত আব্দুল মনাফের পুত্র রুহেল (৩০) ও সুমেল (২৫), দক্ষিণ বুড়দেও গ্রামের আব্দুছ ছালাম (৫০) ও তার পুত্র সজল (১৮)।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সী মেডিকেল অফিসার জানান, আহত চারজনের মধ্যে একজনকে নাক, কান ও গলা বিভাগে এবং দুজনকে ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানান ইমার্জেন্সী মেডিকেল অফিসার। এ নিয়ে কোম্পানীগঞ্জে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট) সার্কেল নজরুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় নিহত যুবলীগ নেতা আব্দুল আলীর সহোদর আব্দুল হক ও সুমেলের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে এ চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে সুমেল ও রুমেল সহোদর। সজল তাদের ভাগ্নে আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি জানান, হাঙ্গামা সৃষ্টিকারীদের ধরতে কোম্পানীগঞ্জের ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত যুবলীগ নেতা নিহত আব্দুল আলীর ভাই সোনা মিয়া ও আব্দুল হকের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে আব্দুল আলীর অবিক্রিত মজুদকৃত পাথরের মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে একটা বিভক্তি তৈরি হয়। রুহেল ও সুমেল তাদের বড় ভাই সোনা মিয়ার পক্ষ নেয়। অপরদিকে আব্দুল হকের পক্ষে অবস্থান নেয় তাদের আপন ভগ্নিপতি আব্দুছ ছালাম ও তার ছেলেরা। এর জের ধরেই গতকাল সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জের থানাবাজারে নিকছন হোটেলের সামনে দুই সহোদরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঘটনাটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। তবে, তার আগেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয় সুমেল, রুহেল ও সজল। ঘটনার সময় উপস্থিত আব্দুস সালামও আহত হন। আহতদের প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার পর আব্দুল হক, রুহেল, সুমেলদের মা খয়রুন বেগম থানায় হাজির হয়ে ওসিসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলে আব্দুল হক ও আব্দুছ ছালামের ছেলে সজল মিলে তার অপর দুই ছেলে রুহেল ও সুমেলকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে। তিনি তার বড় ছেলে সোনা মিয়ার সাথে পরামর্শ করে মামলা করবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সজল কুমার কানু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিহত যুবলীগ নেতা আব্দুল আলীর অবিক্রিত পাথর নিয়ে ভাইদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঘটনাটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

শেয়ার করুন