অনবদ্য বৃটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস

এখন কারি ইন্ডাস্ট্রিতে দক্ষ শেফরা আসছে বাংলাদেশ থেকে
সাজু আহমেদ, লন্ডন থেকে:মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। অনবদ্য আয়োজন। তারা ঝলমলে রেড কার্পেট। বিজয়ীদের উচ্ছাস আর চোখ জুড়ানো পারফরম্যান্স। একেই বলে সত্যিকার বিশ্বমানের আয়োজন। ২৫ নভেম্বর লন্ডনের বেটারসি পার্ক ইভুলশনে অবিস্মরণীয় এক রাত কাটল সব মিলিয়ে। এক যুগের বেশি বয়সী বৃটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস আরও একবার জানান দিল এই আয়োজন কেন অন্য সব আয়োজনের চেয়ে আলাদা।

বিবিসি ও চ্যানেল ফাইভ এর বিখ্যাত রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার জেরেমি ভাইন এর সাবলীল উপস্থাপনায় প্রায় ১৭০০ মানুষের আগমনে ব্রিটিশ লর্ড, বাকিংহাম প্যালেস ও ১০ ডাউনিং স্ট্রিট এর প্রতিনিধি, সাবেক মন্ত্রী، এমপি, প্রতিটি মূলধারার রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, প্রায় শতাধিক ব্রিটিশ সেলিব্রিটি ও কারি অনুরাগী সাদা, কালো ও বাদামি বর্ণের মানুষদের এক রাজকীয় আযোজন অনুষ্ঠিত হলো অস্কারখ্যাত ১৫তম ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড এর অনিন্দ্যসুন্দর বাটারসি পার্কের দৃষ্টিনন্দন ব্যতিক্রমী স্টেজে।

বহুজাতিক সংস্কৃতির অন্যতম বাহন কারি যে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এর নমুনা তুলে ধরতে এবার বেছে নেয়া হয়েছিল নিউইয়র্ক সিটিকে। নিউইয়র্ক এর আনাচে কানাচে শাড়ি, লুঙ্গি ও সেলোয়ার কামিজের সাথে কারি ও যে পৌঁছে গেছে এর বহুজাতিক সংস্কৃতিতে তা প্রতীকী হিসাবে তুলে ধরা হয় শৈল্পিক উপস্থাপনার মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী এমবিই বলেন- ব্রিটেন কোনদিনই গ্রেট ব্রিটেন হতে পারবে না বহুজাতিক সংস্কৃতির অংশগ্রহণ ছাড়া। আর বহুজাতিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে চিকেন টিক্কা তথা ব্রিটিশ কারি। এই কারি দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বহুজাতিক সংস্কৃতির প্রতিনিধি হিসাবে। এর ব্যতিক্রম নয় আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটি ও. তাই আমরা এবার প্রতীকী হিসাবে তুলে ধরা ধরেছি নিউ ইয়র্ক সিটিকে।

বক্তব্য রাখছেন ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী এমবিই

অনুষ্ঠানে বলা হয় টেকওয়েযুক্ত রেস্টুরেন্ট এ কর্মী আনার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে বাঙালি রেস্টুরেন্ট এ কর্মী আনা যাচ্ছিলো না۔ ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ডের ক্যাম্পেইন মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে যে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন، বর্তমান সরকার এই ধারা প্রত্যাহারের ফলে এখন টেকওয়েযুক্ত রেস্টুরেন্ট এ (বাঙালি মালিকানাধীন প্রায় শতভাগ রেস্টুরেন্ট এ টেকওয়ে সার্ভিস রয়েছে ) বিদেশি কর্মী আনা সম্ভব হচ্ছে।এই ভিন্দালু ভিসা বাস্তবায়নে কারি এওয়ার্ডের পক্ষ থেকে সরকারকে অভিনন্দন জানানো হয়।পাশাপাশি এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য কনজারভেটিব পার্টি, লেবার পার্টি, লিবডেমসহ সকল রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ দেয়া হয়।

বৃটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী এমবিই তার বক্তব্যে তুলে আনেন বাংলাদেশের ইতিবাচক দিক। বক্তব্যে তিনি কারি শিল্পের বিভিন্ন সংকট তথা রেইট, পার্কিং সমস্যা ও অন্যান্য সমস্যা নিরসনের উপায় ও সম্ভাবনার কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রথম সারির রাজনীতিবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লর্ড নিকোলাস হার্ভি, লেবার পার্টির সাবেক সেক্রেটারি ইয়ান মাক নিকোল, সাবেক ট্রান্সপোর্ট মন্ত্রী ক্রিস গ্রেইলিং, লিবডেম ডেপুটি লিডার এড ডেভি, কনজারভেটিভ পার্টি ডেপুটি চেয়ারম্যান পল স্কুলি, বর্তমান লিবডেম চিফ অফ স্টাফ আলিস্টার কারমিচাল।

এছাড়া শতাধিক সেলেব্রিটির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্টিকলি ডানসিং এর বিচারক শার্লি বালাস, টিভি অভিনেতা ক্রিস্টোফার বেগান, বিখ্যাত সাংবাদিক নিনা নানার, অভিনেতা ড্যানিয়েল টেলর, মূলধারার গায়ক মিনস্টার ফাবুলাস, রেডিও উপস্থাপক আনজি গ্রাভস, স্নোকার খেলোয়াড় জিমি ওয়াইট, বিবিসি উপস্থাপক সাইন রিহান, টিভি ব্যক্তিত্ব পাটি বওআই, ফুটবলার সিমোন গার্নার, টিভি ও রেডিও উপস্থাপক জেমস ওয়াইন, বক্সার ফ্রাঙ্ক বাগলিমি প্রমুখ।
এছাড়া ও উপস্থিত ছিলেন এপ্রেন্টিস এর একঝাঁক তরুণ প্রতিযোগী।

শেয়ার করুন