স্বাধীনতাকামীদের আন্দোলনে অচল স্পেনের কাতালান

স্পেন থেকে আব্দুল কাদির আল মাহদি :: রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট স্পেনের কাতালোনীয়ার স্বাধীনতাকামী কয়েক নেতাকে কারাদণ্ড প্রদানের পর আন্দোলন শুরু করেছেন রাজ্যটির বাসিন্দারা। তিন-চার দিন থেকে তাদের লাগাতার আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে এ রাজ্য। গত দু’বছর পুর্বে অনুষ্টিত গণভোটের সূত্র ধরেই এই আন্দোলন।

২০১৭ সালে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনের সময় নিজেদের ভূমিকার জন্য সোমবার অঞ্চলটির ৯ স্বাধীনতাকামী নেতাকে কারাদণ্ড দিয়েছে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট। আদেশে তাদের ৯ থেকে ১৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ের পরই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেছে কাতালানরা। আজ ১৮ই অক্টোবর শুক্রবার হরতাল ও অবরোধের ডাক দিয়েছেন তারা।

পর্যবেক্ষকরা স্পেনে এটিকে স্বরণকালের সবচেয়ে বড় হরতাল বলে বিবেচনা করছেন। এদিন আকাশ,স্থল ও নৌপথ সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি এমন পুরা কাতালান রাজ্য আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক দিন থেকে পুলিশ আন্দোলনকারী হামলা পাল্টা হামলা,ধাওয়া পাল্টা মাঝে অতিবাহিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়ছে অপর দিকে এর জবাবে আন্দোলনকারীরা ককটেল বোমা, এসিড বোমা, গাড়ি ভাঙ্গচুর সহ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে। দিনরাত আকাশে পুলিশের হেলিকপ্টারে টহল দিচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশী সহ বিদেশীদের মাঝে আতংঙ্ক বিরাজ করছে।  বার্সেলোনা ও তার আশেপাশের শহরগুলোর অধিকাংশ ব্যাবসা আজ বন্ধ রয়েছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আঞ্চলিক সরকারের সাবেক ডেপুটি নেতা ওরিয়ল জাঙ্কুরাস। কারাগার থেকে প্রথমবারের মতো রয়টার্সের লিখিত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি।

২০১৭ সালে গণভোট আয়োজনের জন্য কোনও অনুশোচনা নেই জানিয়ে এই স্বাধীনতাপন্থী নেতা বলেন, আমি নিশ্চিত যে এই সমস্যার সমাধান হতে হবে ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে।  আমরা বিশ্বাস করি যে এখন হোক বা পরে কখনো হলেও গণভোট অনিবার্য কারণ নাহলে আমরা কীভাবে নাগরিকদের কণ্ঠস্বর শুনবো?

স্বাধীনতার দাবিতে কাতালোনিয়ায় আরেকবার গণভোট অনিবার্য বলে মনে করেন। অঞ্চলটির স্বাধীনতাপন্থী নেতা ওরিয়ল জাঙ্কুরাস। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টে কারাদণ্ড ঘোষণার পর ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পাঠানো এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন,কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক সরকারের সাবেক এই ডেপুটি নেতা।  তিনি মনে করেন, কারাদণ্ড ও নির্বাসন স্বাধীনতা আন্দোলনকে আরও তীব্র করেছে।

কারাদণ্ডের পর প্রথম ওই সাক্ষাৎকারে জাঙ্কুরাস জানান, তিনিসহ অন্যরা স্ট্রাসবুর্গের ইউরোপীয়ান মানবাধিকার আদালতে কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারাবন্দি হওয়ার পর স্বাধীনতার আন্দোলনে কী বার্তা দিতে চান জানতে চাইলে জাঙ্কুরাস বলেন, আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো আর কখনোই তা ছেড়ে যাবো না। কারাদণ্ড আর নির্বাসন আমাদের আরও শক্তিশালী করেছে।

তিনি বলেন, `আমি নিশ্চিত এই কারাদণ্ড স্বাধীনতা আন্দোলনকে দুর্বল করবে না, বরং আমাদের আন্দোলনকে আরও তিব্র থেকে তিব্র করবে। বিশ্বের বুকে এক সময় আমরা স্বাধীন এক ভূখন্ড হিসেবে আত্ম প্রকাশ করবো।’

শেয়ার করুন