সিলেট প্রেসক্লাব- লুৎফুর লায়লা ফাউন্ডেশন সাংবাদিক সম্মাননা পাচ্ছেন সালেহ

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সিলেট প্রেসক্লাব- লুৎফুর লায়লা ফাউন্ডেশন সাংবাদিক সম্মাননা-২০১৯ এর জন্য মনোনিত হয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কবি, দৈনিক জালালাবাদ এর সহকারী সম্পাদক নিজাম উদ্দিন সালেহ।

বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ মনোনয়ন চুড়ান্ত করা হয়। আগামী ৭ অক্টোবর প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে।

নিজাম উদ্দীন সালেহ’র জন্ম ১৯৫৭ সালের ২২ নভেম্বর তার নানাবাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জের রাজাপুর গ্রামে জায়গীরদার বাড়িতে। তার পৈতৃক নিবাস ওসমানীনগরের তাহিরপুরে। তার পিতা ছিলেন বহুভাষাবিদ মৌলভী আব্দুল জলিল।

আশির দশকের শুরুতে দৈনিক জালালাবাদী ও সাপ্তাহিক সিলেট সমাচারে সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন নিজাম উদ্দিন সালেহ। পরে সিলেটের ডাক ও যুগভেরীতে সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ব্রিটেনের প্রবাসীদের প্রথম ইংরেজি সাপ্তাহিক বাংলা মিররে সিলেট প্রতিনিধি হিসেবে ১০ বছর দায়িত্বপালন করেছেন তিনি। ব্রিটেনের অনলাইন ইংরেজি পত্রিকা ‘সিলেট মিররে’ দায়িত্ব পালন করেন এবং নিউ নেশন, নিউ এইজ, নিউজ টুডেতে লেখালেখি করেন।

তিনি বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক সাপ্তাহিক সিলেট টাইমস্ পত্রিকা ৩ বছর সম্পাদনা করেন। পাশাপাশি ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজে ও-লেভেলে ইংরেজি শিক্ষক এবং অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ইংরেজির প্রভাষক ছিলেন নিজাম উদ্দীন সালেহ।

নিজাম উদ্দীন সালেহ একজন খ্যাতনামা কবি । তার প্রকাশিত বইগুলো হলোÑ এইদেশ এই মাটি (১৯৭৫), সবুজের আগ্নেয় প্রপাত (কবিতা সংকলন, ১৯৭৭), অভিযাত্রীর স্বপ্ন (১৯৮৬), শ্বাশ্বত প্রত্যয় (১৯৯৬), ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা (গবেষণা-২০১৪), নীল চাঁদোয়ার নিচে (কাব্য- ২০১৬)।

তার ৫টি বাংলা-ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থ দেশ বিদেশে থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি লেখক ও গবেষক হিসেবে পণাতীর্থ ঃ অ্যা প্লেস অব পিলগ্রিমেজ (ডকুমেন্টারী) এবং ২০১৬ সালের শ্রেষ্ঠ শর্ট ফিল্ম হিসেবে লস এঞ্জেলেস ফিল্ম ফেস্টিভেলে পুরস্কৃত ‘পুশ কীডস্’ (ক্বীন ব্রীজের ঠেলাওয়ালা শিশুদের নিয়ে ডকুমেন্টারী) এ কাজ করেছেন যা আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন।

নিজাম উদ্দিন সালেহ ইউরোপের ইউক্রেইনের চেরকাসি স্টেট টেকনোলজির ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যা বিষয়ক সারফেইস টেকনোলজির ওপর লেখা একটি ম্যানুয়েল বাংলায় অনুবাদ করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘রেফারেন্স বুক’বা সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়।

এছাড়া ঢাকা বিদ্যালয়ের থিসিস লেভেলের বেশ বিষয় তিনি ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তর করেন। তিনি বিশ্ববিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক এন্থনি মাসকারেনহাসের বাংলাদেশ বিষয়ক গ্রন্থ ‘বাংলাদেশ ঃ অ্য লিগ্যাসি অব ব্লাভের’ প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক। বইটির একাধিক অনুবাদ হয়। তিনি কাব্য সাহিত্যে অবদানের জন্য বেশ কয়েকটি পুরস্কারও পেয়েছেন।

শেয়ার করুন