সিলেটে অধিকার’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: ‘সংগ্রামের ২৫ বছর’ স্লোগানকে সামনে রেখে সিলেটে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার’র ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা মানবাধিকার রক্ষায় অধিকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।

তারা বলেন, দেশে যেকোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে অধিকার তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। গুম, হেফাজতে নির্যাতন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে অধিকার কাজ করে যাচ্ছে। অধিকার মানবাধিকার রক্ষায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারকে সহায়তা করে আসছে।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার সিলেটের কো-অর্ডিনেটর সাংবাদিক মো. মুহিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির, সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল কাদের তাপাদার, সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন ল’ কলেজের অধ্যাপক সৈয়দ কাওছার আহমদ এডভোকেট, সিনিয়র সাংবাদিক জেড এম শামসুল এবং বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সংগঠক ও ব্যাংকার মিনহাজ আহমদ।

সভার শুরুতে অধিকার এর বিবৃতি পাঠ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মী সাঈদ আহমদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ রেনু, সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. আফতাব উদ্দিন, পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক খালেদ আহমদ, প্রেসক্লাব সদস্য শেখ আশরাফুল আলম নাসির, মানবাধিকার কর্মী আলী আহসান হাবিব, সেবুল আহমদ, তারেক আহমদ, রুহুল ইসলাম মিঠু প্রমুখ।

এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় অধিকার ২৫ বছর ধরে যে কাজ করছে তা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা অনেক সময় বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এ থেকে মনে হয় অধিকার মানবাধিকার রক্ষায় ভালো কাজ করছে। তিনি অধিকারের সাফল্য কামনা করেন।

ইকরামুল কবির বলেন, দেশে অনেক ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরো বেশি স্বোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। অধিকার ২৫ বছর ধরে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। যা প্রশংসার দাবি রাখে।

ইকবাল সিদ্দিকী আবরার হত্যাকান্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ হত্যাকান্ড মেনে নেওয়া যায় না। মেধাবী ছাত্রকে হত্যার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। তিনি অধিকারের ২৫ বছরের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

অধিকারের কো-অর্ডিনেটর মো. মুহিবুর রহমান বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজনের প্রচেষ্টায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর ‘অধিকার’ প্রতিষ্ঠা হয়। এর মূল লক্ষ্যই ছিল রাষ্ট্রের হাতে সংঘটিত সমস্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো, রাষ্ট্রকে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা থেকে বিরত রাখার বিষয়ে সোচ্চার হওয়া এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনা, ভিকটিমদের সহযোগিতা করা এবং সর্বোপরি জনগণকে তাদের মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন করা।

শেয়ার করুন