শাবির বাংলা বিভাগের অনুপ্রাণনের র‌্যাগ ডে

শাবি প্রতিনিধি:: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১১তম ব্যাচকে ডাকা হয় “অনুপ্রাণন” নামে। অনুপ্রাণন যার অর্থ দাঁড়ায় প্রেরণাদান, শক্তিসঞ্চারণ, উজ্জীবন, উৎসাহিতকরণ। বাংলা সাহিত্যের অনুপ্রাণনে নিজেদের গেঁথে নিয়েই পূণ্যভূমি সিলেটের এই ৩২০ একরে পারি দিয়েছে চারটি বছর।

২০১৫-১৬ স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের এক গুচ্ছ হচ্ছে এই অনুপ্রাণন। চারটি বছরে শাবির বাংলা বিভাগের পড়াশোনা, খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক চর্চা, ছবি আঁকা,ছবি তোলা, দেয়ালিকা প্রকাশ করা, সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা, ব্যাচট্যুরের মাধ্যমসহ সকল কাজেই ছিল অনুপ্রাণনদের অংশগ্রহণ। কিন্তু চারবছরের সম্মান শ্রেণীর শেষ ক্লাসটিই তাদের জানিয়ে দেয় তাদের বিদায়বেলা।

চার বছরের জমানো আড্ডা, ঝগড়া, ভালোবাসা, হিংসে, খুনসুটিগুলো প্রকাশ পায় গায়ে জড়ানো সাদা টিশার্টে মার্কার কলমের কয়েকটি শব্দে। পালন করা হয় র্যাগ ডে। স্মৃতিচারণ, কেক কাটা, রঙখেলা, গ্রুপছবিগুলো ১৬বছরের শিক্ষাজীবনের শেষবারের একত্রে করা। আর এভাবেই গত ২১ অক্টোবর শাবির বাংলা বিভাগের অনুপ্রাণনদের হয়ে গেলো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের র্যাগ ডে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিভাগে প্রতিদিন ক্লাস করা হতো, ঠিক সেই বিভাগের শিক্ষাভবনের সামনেই সবাই একত্র হয়। শুধু তাই না, অনুপ্রাণনদের স্মৃতির আড্ডায় বাংলা বিভাগের অন্যান্য ব্যাচ উন্মেষ,শঙ্খচিল, উদ্দীপ্ত এর শিক্ষার্থীরা যোগদান করে। অনুপ্রাণন ব্যাচ এর আশিক রহমান দিপ্র বলেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে র‍্যাগ ডে পালন করেছি। সবার মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব ছিল প্রথমে সেটাই যেন আবার শেষের দিকে ফিরে পেলাম। কেক কাটা, টি-শার্টে মজার মজার কথা লেখা আর ছিল রং মাখামাখির মহড়া। র‍্যাগের দিনের রং তো মুছে যাবেই কিন্তু মনে যে রঙের দাগ থেকে গেলো তার স্থায়ীত্ব হবে সারাজীবন।

রোহিতুজ্জামান নাজমুল বলেন, চার বছরের শুরুটা মনে হয়েছিল দীর্ঘ। কিন্তু ক্লাসের সবার আত্মিক বন্ধনটা সময়টাকে অল্প করে দিয়েছে। বাকীজীবনে সহস্র চেষ্টায় এতোগুলো মানুষের বন্ধনের সাথে একসাথে হতে পারবোনা। আনুপ্রাণন ব্যাচ এর ফারাহ হাসান দিবা জানান,চার বছর যেনো চোখের পলকেই চলে গেল,আজও যেনো সেই প্রথম দিনের স্মৃতি চোখের সামনে ভাসে।এই চার বছরের যেই বন্ধন তৈরি হয়েছে তা যেন সব সময় এমন অটুট থাকে।

শেয়ার করুন