মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা আজ

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: শারদীয় দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিনে আজ রোববার মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজা।

দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিনের প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা।

শাস্ত্রমতে, এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুব্জিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয় ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে অন্নদা বলা হয়ে থাকে।

রোববার সিলেটের পূজামণ্ডপগুলোতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এরআগে দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীতে শনিবার পূজামন্ডপগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। এদিন দেবী নব পত্রিকা বাসিনী রূপে পূজো নেবেন ভক্তদের কাছ থেকে। শঙ্খধ্বনি, উলু ধ্বনি আর নব পত্রিকায় প্রবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবী দুর্গার আরাধনা। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাদানে অর্থাৎ ষোলটি উপাদানে দেবীর পূজো হবে। সকালে ত্রিনয়নী দেবীর চক্ষুদান করা হয়। দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, ¯œানীয়, পুষ্পমালা, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করেন ভক্তরা।
জীবের দুর্গতি হরণ করেন বলে তিনি দুর্গা। আবার তিনি দুর্গম নামের অসুরকে বধ করেছিলেন বলেও দুর্গা নামে পরিচিতা হন। তিনি শক্তিদায়িনী অভয়দায়িনী। যুগে যুগে বিভিন্ন সংকটের সময় তিনি মর্ত্য ধামে আবির্ভূত হয়েছেন বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন নামে। তাই, তিনি আদ্যাশক্তি, ব্রহ্মা সনাতনী। দুর্গা, মহিষ মর্দিনী, কালিকা, ভারতী, অম্বিকা, গিরিজা বৈষ্ণবী, কৌমারী, বাহারী, চন্ডী লক্ষ্মী, উমা, হৈমবতী, কমলা, শিবানী, যোগনিদ্রা নামেও পূজিতা।

দুর্গতি নাশিনী দেবী দুর্গার আগমনে ভক্ত পুণ্যার্থীরা শনিবার পূজামন্ডপে সমবেত হন আনন্দ ও শ্রদ্ধাকুল চিত্তে। পূজা শেষে সকলে মিলে জগজ্জননী দুর্গার চরণে নিবেদন করের পুষ্পাঞ্জলি। সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় সমাগত পুণ্যার্থীদের কন্ঠে সমস্বরে উচ্চারিত হবে শান্তির মন্ত্র। নানা বয়স ও শ্রেণী পেশার মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিটি মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হবে মহাতীর্থে।

মা দুর্গার কাঠামোতে জগজ্জননী দুর্গা ছাড়াও লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, সিংহ ও অসুরের মূর্তি থাকে। এছাড়া পেঁচা, হংস, ময়ুর, ইদুঁর ও সবার উপরে শিবের মূর্তি বিদ্যমান।

শনিবার বিকেল থেকে প্রতিমা দর্শণার্থীদের ঢল নামে মন্ডপে মন্ডপে, প্রতিটি মন্দির এলাকা পরিণত হয় জনারণ্যে। দিনব্যাপী প্রতিটি মন্দিরে ও বিভিন্ন স্থানে চলে সদ গ্রন্থাদি পাঠ, ধর্মসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় রঙ- বেরঙের আলোয় আলোকিত করা হয় পূজা মন্ডপগুলো। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে আরতি প্রতিযোগিতা, ধর্মীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান, নাটকসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

শেয়ার করুন