প্রেমের টানে সিলেট আসা খাসিয়া নারীকে হস্তান্তর

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: প্রেমের টানে সীমান্ত পেরিয়ে এপারে এলেও থাকতে পারলেন না ভারতের মেঘালয়ের ইস্ট জৈন্তাহিলের এসপিটিলা হেওয়াই বস্তির পাঁচ সন্তানের জননী কারেংশু খাসিয়া।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পতাকা বৈঠকের পর ওই নারীকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি গত ১২ অক্টোবর প্রেমিক টিপরাখলা সীমান্তের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা হারিছ উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়ার সাথে পালিয়ে চলে আসেন বাংলাদেশে। বাংলাদেশে আসার পরপরই প্রেমিক ফিরোজ তাকে নিয়ে চলে যান আত্মগোপনে।

তাকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে বুধবার এক বাংলাদেশী এবং অর্ধশত গরু ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় খাসিয়ারা। এ নিয়ে সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

বুধবার বিকেলে পতাকা বৈঠক করে বিজিবি-বিএসএফ। তখন ভারতীয় খাসিয়ারা কারেংশুকে ফেরত দিলেই বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুন নুর ও ধরে নিয়ে যাওয়া গরু ফেরত দেবে বলে জানায়। অন্য দিকে পুলিশও আত্মগোপনে যাওয়া প্রেমিক-প্রেমিকার অবস্থান শনাক্ত করে। মৌলভীবাজারের জুড়ি পুলিশের সহায়তায় তাদের ধরে জৈন্তাপুরে নিয়ে আসা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পতাকা বৈঠকের পর ওই নারীকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয় এবং বাংলাদেশী যু্বকসহ ধরে নিয়ে গরুগুলোও তারা বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পতাকা বৈঠকে বিজিবির নেতৃত্বে ছিলেন জৈন্তাপুর ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবদুল কাদের এবং বিএসএফের নেতৃত্বে ছিলেন আইএসপি সুরেন্দ্র রায়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর থানার এস আই আতিকুর রহমান রাসেল ও বিএসএফের হেওয়াই ক্যাম্পের হাবিলদার পঙ্কজ কুমার ও ভারতের মুক্তাপুর থানার অফিসার আর এ তারিং।

এ ব্যাপারে বিজিবি জৈন্তাপুর ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল কাদির জানান, “আমরা কয়েক দফা শান্তিপূর্ণ ভাবে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে চলে আসা নারীকে পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার করে নিয়ে আসি এবং বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ভারতীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করেছি।”

শেয়ার করুন