দাবি মেনেছে বিসিবি, মাঠে ফিরছেন ক্রিকেট

স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- বিসিবির সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে ক্রিকেটারদের। আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার’রা। ক্রিকেটার’রা শনিবার থেকে ফিরছেন মাঠে।

বিসিবির কার্যালয়ে বেশ কিছুক্ষণ বিসিবি নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার’রা। আলোচনায় খেলোয়াড়রা সন্তুষ্ট হয়েছেন, আন্দোলন স্থগিত করেছেন সাকিব-তামিম’রা। ২৫ তারিখ থেকে মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটার’রা।

বাংলাদেশের আসন্ন ভারত সফর হবে ঠিক সময়ে। তবে অনুশীলন ক্যাম্প ২ দিন পেছানো হয়েছে; ২৫ তারিখ থেকে মিরপুরের জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে। আর চলমান জাতীয় লিগও পিছিয়েছে, শনিবার থেকে চলবে জাতীয় লিগ।

কিন্তু সাকিবদের শেষের দুই দফা দাবি, অর্থাৎ ১২ত ও ১৩ নং দাবি নিয়ে আজ কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই নতুন দাবিগুলো নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা হবে।

দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেন,

‘আপনাদের মাধ্যমে (গণমাধ্যমকে) খেলোয়াড়দেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তাঁরা আমাদের সাথে বসেছে। ওদের যা দাবি দাওয়া ছিল, আমি কালকেই বলেছিলাম এগুলো আমাদের মানার মতো। প্রথম দাবিটা আমাদের অধীনে না থাকায় এইটা নিয়ে আমরা কিছু বলতে পারছি না। বাকি সব কিছু আমরা দ্রুত খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়েই কাজ করবো। আমরা প্রত্যেকের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করবো। শনিবার থেকে জাতীয় লিগ আবার চলবে। জাতীয় দলের ভারত সফরের ক্যাম্প ২৫ তারিখ থেকে শুরু হবে।’

এর আগে আজ গুলশানের সিক্স সিজনস হোটেলে ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি পূর্বের ১১ দফা দাবির সঙ্গে আজ আরও দুটি দাবি অর্থাৎ সর্বমোট ১৩টি দাবি জানায় বাংলাদেশের ক্রিকেটার’রা।

১৩ দফা দাবিঃ

১. কোয়াবের বর্তমান কমিটিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

২. প্রিমিয়ার লিগ আগের মত করতে হবে। নিজেদের ডিল করতে দিতে হবে।

৩. এ বছর না হোক, তবে পরের বছর থেকে আগের মত বিপিএল হতে হবে, স্থানীয় ক্রিকেটারদের দাম বাড়াতে হবে।

৪. প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি বাড়াতে হবে, বেতন বাড়াতে হবে, ১২ মাস কোচ ফিজিও দিতে হবে, প্রতি বিভাগে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫.রিমিউনারেশন বাড়াতে হবে। ভালো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা ও তাঁদের বেতন বাড়াতে হবে।

৭. দেশি সব স্টাফদের বেতন বাড়াতে হবে, কোচ থেকে গ্রাউন্ডসম্যান, আম্পায়ার সবার বেতন বাড়াতে হবে।

৮. ঘরোয়া ওয়ানডে লিগ বাড়াতে হবে, বিপিএলের আগে আরেকটি টি-টোয়েন্টি লিগ করতে হবে।

৯. ঘরোয়া ক্যালেন্ডার আগে থেকেই ঠিক করতে হবে।

১০. সব লিগে ক্রিকেটারদের পাওনা টাকা সময়ের মধ্যে দিতে হবে।

১১. ফ্রাঞ্চাইজি লিগ দুইটার বেশি খেলা যাবে না-এমন নিয়ম তুলে দিতে হবে। সুযোগ থাকলে সবাই খেলবে।

১২. বিসিবির যে রেভিনিউ জেনারেট হচ্ছে তার একটা অংশ ক্রিকেটারদের দিতে হবে।

১৩. বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্যও একই রকম নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ক্রিকেটাররা মনে করে নারী ক্রিকেটাররাও সমান অধিকার ডিজার্ভ করে।

 

শেয়ার করুন