কোম্পানীগঞ্জে ভারত থেকে আসা মহিষের গুতায় আহত যুবকের মৃত্যু

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি \ মৃত্যুর সঙ্গে তিনদিন লড়ে হেরে গেলেন পাগলা মহিষের আক্রমণে আহত জামাল আহমদ (৩৫)। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে সিলেটের একটি প্রাইভেট মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মহিষের আক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচাতে প্রাণপণ লড়াই করেছিলেন জামাল। মহিষের আক্রমণে আহত হয়ে তার মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জামাল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জিলু মিয়ার পুত্র। তার সাত, পাঁচ ও দুই বছর বয়সের তিনটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
গত ১৬ অক্টোবর বুধবার সকালে লম্বাকান্দি গ্রামের দক্ষিণের হাওরে একটি পাগলা মহিষের আক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন জামাল। এসময় মহিষের শিংয়ের গুঁতোয় গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রæত কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তাকে। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্তে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা রাতে ভারত থেকে আসা একটি পাগলা মহিষ লোকজনকে তাড়া করে। ভোলাগঞ্জ গ্রাম হয়ে সেটি পাড়–য়া গ্রামে প্রবেশ করে। সেখান থেকে তাড়ানোর পর মহিষটি লম্বাকান্দি ও কাঠালবাড়ি গ্রামের মাঝামাঝি ধুলিয়া সাতবিলা হাওরে আশ্রয় নেয়। পরদিন বুধবার গ্রামের কয়েকজন কৃষক মহিষটিকে দেখতে পান। এসময় মহিষের আক্রমণে কয়েকজন আহত হন। ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে মহিষটি দেখতে আশপাশের হাজারও উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমান। পাগলা মহিষের পাগলামি তখন আরও বেড়ে যায়। যাকে সামনে পায় গুঁতো মারতে থাকে। আহত হন অন্তত ৩০ জন। এসময় ভয় ও আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু করেন লোকজন। মহিষের আক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচাতে তখন এগিয়ে আসেন জামাল। দা হাতে মহিষের দিকে এগিয়ে যান। বেশ কিছুক্ষণ লড়াইও করেন। কিন্তু, ক্ষ্যাপা মহিষটির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাননি তিনিও। গুরুতর আহত হয়ে পড়ে থাকলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনদিন মৃত্যুর সাথে লড়ার পর শনিবার বিকেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

শেয়ার করুন