কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পুন:কাউন্সিল করার দাবি

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে নির্বাচিত সভাপতি তোতা মিয়াকে চিহ্নিত ইয়াবা বিক্রেতা দাবি করে এ কাউন্সিল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা। বিষয়টি জেলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগকে অবগত করলেও কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তড়িগড়ি করে কাউন্সিল সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও দাবি করছেন তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি করেন তারা। লিখিত বক্তব্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশে দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে শক্ত অভিযান চলছে। একমাত্র বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনের লক্ষ্যে বিশেষ করে বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের দেশব্যাপী বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটি ক্লিন ইমেজ ও দলের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলছে। ঠিক সেই সময় দলের ভেতরে ঘাঁপটি মেরে বসে থাকা একটি কুচক্রীমহল ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর আয়োজন করে নানা বিতর্ক ও সংঘাতের জন্ম দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে উপজেলার একজন চিহ্নিত ইয়াবা ও মাদক বিক্রেতা তোতা মিয়াকে একটি মহল সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। সম্মেলনে দলীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দুলালের কাছে তার নানা অপকর্মের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে তার প্রার্থীতা বাতিলের জন্য বার বার অনুরোধ করলেও তিনি বিষয়টি আমলে না নিয়েই তড়িগড়ি করে ভোটগ্রহণ শুরু করেন।’

‘উক্ত ভোট গণনার সময় কাউন্সিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মোহাম্মদ আলী দুলাল উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দকে কাউন্সিলের হল রুম থেকে বের করে হাতেগোনা জেলার কিছুসংখ্যক নেতৃবৃন্দ নিয়ে ভোট গণনা করেন। পরে ভোট গণনা শেষে ইয়াবা ব্যবসায়ী তোতা মিয়াকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এতে এই ভোট গণনার ফলাফলে আমাদের সন্দেহ ঘণীভুত হয়। দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে ষড়যন্ত্রমূলক এই কাউন্সিল বাতিল করে পুণরায় কাউন্সিল করার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় গঠনতন্ত্রে ইউনিয়ন কাউন্সিলে ১৫ জন সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কো-অপ্ট ভোট গ্রহণের বিধান উল্লেখ থাকলেও আমাদের ইউনিয়ন কাউন্সিলে তা গ্রহণ করা হয়নি। কাউন্সিল চলাকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক লুৎফুর রহমানকে অনেকবার অনুরোধ করলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এমতাবস্থায় প্রকৃত আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দিয়ে একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী কমিটি গঠনের লক্ষ্যে পুণরায় কাউন্সিল করার জন্য দলের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংগঠক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি’র হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল খালিক, যুগ্ম আহবায়ক কয়ছর আহমদ, উপজেলা যুবলীগের সদস্য নজমুল ইসলাম প্রমুখ।

শেয়ার করুন