আজ বিজয়া দশমী, চাঁদনীঘাটে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: আজ সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষদিন, শুভ বিজয়া দশমী । প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ সমাপন ঘটবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

হিন্দু ধর্মমতে, আজই মর্ত্য ছাড়বেন দুর্গতিনাশিনী ফিরবেন স্বামীর গৃহ কৈলাশে। বছরের আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথি থেকে দশমী তিথিতে জগজ্জননী উমা দেবীর পিতৃগৃহ থেকে বেরিয়ে যাওয়া হয়। মহাষষ্ঠীর দিন অকাল বোধনে স্বামীর ঘর কৈলাশ থেকে দেবীর অধিষ্ঠান হয়েছিল ঠাকুরঘরে বা পূজাম-পে। ষষ্ঠী থেকে দশমীর বিদায়ের সময় একদিকে আনন্দের জোয়ার, আবার অন্যদিকে বিষাদের সুর বাজে। আজ বিজয়া দশমী। আর একটি মাত্র দিন পেরোলেই মা দুর্গা ফিরবেন কৈলাশে স্বামীর ঘরে। শরতের শুক্লপক্ষে ভক্তের অকাল বোধনে মা-দুর্গা – দেবী লক্ষ্মী, দেবী সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, কলা বৌ এবং মাথার উপর শিবকে নিয়ে সপরিবারে আসেন ধরাধামে বা ম-পে। সাথে অসুর, দুর্গার বাহন সিংহ, লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা, সরস্বতীর বাহন শ্বেতহংস, কার্তিকের বাহন ময়ূর, গণেশের বাহন ইঁদুর। বিদায় বেলায় সকলকে নিয়ে মা উমা ফিরবেন কৈলাশে।

গতকাল সোমবার ছিল মহানবমী। নবমী পূজা শেষে যজ্ঞাদি অনুষ্ঠিত হয়। যজ্ঞ নবমী পূজার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দুর্গতিনাশিনী, মহিষাসুর মর্দিনীর আরাধনা করেন। মহানবমীর রাতেও নগরীর পূজামন্ডপগুলোতে ভক্ত, পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। ঢাক-ঢোল আর শঙ্খ ধ্বনিতে মুখর নগরীর টিলাগড় গোপালটিলা এলাকার সার্বজনীন পূজা দেখতে আসা দর্শনাথীদের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত ভাব লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর দাড়িয়াপাড়ার চৈতালী সংঘ পূজাম-পে অন্যান্য বছরের মতো এবারও দর্শনার্থী টানতে দৃষ্টিনন্দন অস্থায়ী ম-প নির্মাণ করা হয়েছে। পূজাম-পের প্রবেশ পথে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ করা গেইট ও মন্দিরে যাওয়ার পথ দর্শণার্থীদের নজর কাড়ে।

এদিকে, নগরীর চাঁদনীঘাটে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন করা হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার ব্যবস্থাপনায় প্রতিমা বিসর্জনের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সুবোধ মঞ্চ থেকে প্রতিমা বিসর্জন নিয়ন্ত্রণ করা হবে জানান মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত। তিনি আরো জানান, প্রতিমা বিসর্জন উদ্বোধন করবেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিমা বিসর্জনের সময় রাস্তায় মসজিদের পাশে ও নামাজের সময় মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম না বাজানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন-এর এক সফরসূচিতে জানানো হয়েছে, প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে তিনিও উপস্থিত থাকবেন।

শেয়ার করুন