সন্ধ্যায় মুখোমুখি বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক:: বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকেই পরাজয় যেন অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরেছে। ইংল্যান্ডে ব্যর্থ মিশনের পর শ্রীলঙ্কা সফরে ভরাডুবি। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। সপ্তাহ খানেক আগে ঘরের মাঠে সাদা পোশাকে ‘পুঁচকে’ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে লজ্জার হারে মানসিকভাবে যেন ভেঙে পড়েছেন সাকিবরা। তবে হতাশাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আজ নতুন করে শুরুর আশায় মাঠে নামছে টাইগাররা।

এদিকে, টেস্টের ব্যর্থতা ভোলার মিশনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজ প্রথমদিন মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। অনেকের ধারণা, দাপটের সঙ্গে টি ২০ সিরিজ জিততে পারলে টেস্টে হারার শোক কিছুটা ভুলতে পারবে স্বাগতিকরা।

আগামী বছর টি ২০ বিশ্বকাপের প্রথম প্রস্তুতি বলা হচ্ছে এই সিরিজকে। ম্যাচটি শুরু হবে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর), মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। দেখা যাবে গাজী টিভিতে।

অনিশ্চয়তার ক্রিকেটে সবচেয়ে ‘বিচিত্র’ ফরম্যাট হচ্ছে টি-২০। ফেবারিট তকমা এখানে চলে না! অধিকাংশ সময়ে এক ওভার কিংবা এক বলে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ এক দল। কখন কি করবে বোঝার উপায় নেই। ইদানীং বাংলাদেশ দল নিজেদের সেরা ফরম্যাট ওয়ানডেতেই তো খেই হারিয়ে ফেলেছে। তাই টি-২০তে আজ জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধেও এগিয়ে রাখার উপায় নেই।

তবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের বার্তা পরিষ্কার, হতাশার কথা ভুলে নতুন করে শুরু করতে হবে। আফগানদের বিরুদ্ধে টেস্ট হারের পরেই একথা জানিয়েছিলেন। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো মনে করেন, হয়তো দ্রুতই বাংলাদেশ হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসবে। সেটা এই ম্যাচেই হতে পারে। তবে বাংলাদেশের কোচ প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না।

যদিও জিম্বাবুয়ে দল এখন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাদের সেরা তারকা সিকান্দার রাজাকে স্কোয়াডে রাখা হয়নি। তারপরও এই দলটি বাংলাদেশকে আজ ছেড়ে কথা বলবে না। বাংলাদেশে এসে বিসিবি একাদশের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ জিতে তারা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিয়েছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করতে চাচ্ছে তারাও। গতকাল মিরপুরে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশকে হারানো কঠিন কোনো বিষয় নয়।

পরিসংখ্যানও জিম্বাবুয়ে দলপতির কথাই যেন সমর্থন করছে! টি-২০তে দুই দলের ৯ বারের দেখা। ৫ বার বাংলাদেশ জিতেছে, ৪ বার জিম্বাবুয়ে। তিন বছর আগে দুই দেশের মধ্যকার সব শেষ সিরিজও ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়েছে। যদিও ওই সিরিজে বাংলাদেশ সিরিজ জিততে না পারার পেছনে তখনকার কোচ চন্ডিকা হাতুরাসিংহে অনেকটা দায়ী। তখন বাংলাদেশ বেশ ফর্মে ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে জিতে এগিয়ে থেকেও পরের দুই ম্যাচে হেরে যায় টাইগাররা।

আর এখন বাংলাদেশ তো অনেকটা ব্যাকফুটে চলে গেছে। নতুন কোচিং স্টাফের সঙ্গে এখনো সেভাবে মানিয়ে উঠতে পারেনি ক্রিকেটাররা। তাই ঘরের মাঠে খেলা হলেও সাকিবদের হারানোর দৃঢ় পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামছে জিম্বাবুয়ে। এই ম্যাচ সম্পর্কে মাসাকাদজা বলেন, ‘সংস্করণ যত ছোট হয় দলগুলোর ব্যবধান ততই কমে আসে। টি-২০ খেলাটাই এমন যে কেউ একাই ম্যাচ টেনে নিতে পারে, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এই রকম খেলোয়াড় আপনার দু-তিনজন দরকার- যে কিনা একাই খেলাটা আপনার দিকে এনে দিতে পারে।’

ত্রিদেশীয় এই সিরিজে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া অন্য দলটি হচ্ছে আফগানিস্তান। যে দলটি টি-২০তে দুর্দান্ত। আইসিসি টি-২০ র‌্যাঙ্কিংয়েও বাকি দুই দলের চেয়ে এগিয়ে। র‌্যাঙ্কিংয়ের কথা চিন্তা করলে জিম্বাবুয়েই তুলনামূলক দুর্বল দল। সে কথা খুব ভালো করেই জানেন মাসাকাদজা। তবে নিজেদের কখনোই পিছিয়ে রাখতে চান না তিনি। মাসাকাদজা বলেন, দুই দলই খুব শক্তিশালী। আফগানিস্তান টি-২০তে দুর্দান্ত। আর বাংলাদেশ খেলবে ঘরের মাঠে। তারাও শক্তিশালী। তবে টি-২০তে আমাদেরও সাফল্য আছে। বাংলাদেশে আমরা এর আগে অনেক ভালো খেলেছি। তাই আমার মনে হয় না এই টুর্নামেন্টে আমরা পিছিয়ে থাকব।

মূল লড়াইয়ে নামার আগে দুর্দান্তভাবে প্রস্তুতি সেরেছে জিম্বাবুয়ে। মাসাকাদজারা প্রস্তুতিমূলক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৬ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে।

ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে পরিচিত জিম্বাবুয়ে। টি-টোয়েন্টিতে এই পযর্ন্ত দু’দল মুখোমুখি হয়েছে ৯ বার। তার মধ্যে ৫ বার জিতেছে টাইগাররা। জিম্বাবুয়ে জিতেছে ৪ ম্যাচ। শেষ দু’বারের সাক্ষাতে জিতেছে জিম্বাবুয়ে।

এদিকে দীর্ঘ ৯ মাস পর মিরপুর শেরেবাংলায় ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। আবারও মুখরিত হচ্ছে ক্রিকেট পাড়া। টাইগাররাই পারেন আজ জয় উপহার দিয়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে বাড়িয়ে দিতে। কিন্তু ‘হোম অব ক্রিকেট’-এ নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে পারবে কি টাইগাররা?

শেয়ার করুন