বিশ্বনাথের মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা পিংকি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় মানবপাচারকারী রফিক-পিংকি চক্রের অন্যতম মূলহোতা পিংকি অনন্যা প্রিয়াকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৯। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাটলীপাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ওই গ্রামের মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা রফিকুল ইসলামের মেয়ে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ সদর কোম্পানীর (সিলেট ক্যাম্প) মেজর মো. শওকাতুল মোনায়েমের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল বিশ্বনাথের রামপাশা ইউনিয়নের কাটলীপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মানবপাচারকারী পিংকি অনন্যা প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

সে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানায় দায়েরকৃত ২৩/২০৪ (তারিখ: ১৯/০৯/২০৯ইং) মামলার আসামী। উদ্ধার করা আলামতসহ মানবপাচারকারী পিংকিকে ঢাকা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাটলীপাড়া গ্রামের চমক আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ও তার মেয়ে পিংকি অনন্যা প্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার করে আসছে। গড়ে তুলেছে ভয়ংকর মানবপাচারকারী চক্র।

গত ১১ মে শনিবার লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূ-মধ্যসাগরে নৌকাডুবে বিশ্বনাথ’সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যে সকল তরুণ মারা যান, তাদের অনেককেই ৮ লক্ষ টাকা হারে চুক্তিতে পাঠিয়েছিল এই রফিক-পিংকি চক্র।

মারা যাওয়া তরুণদের একজন উপজেলার নওধার (মাঝপাড়া) গ্রামের ইলিয়াস আলীর পুত্র রেদওয়ানুল ইসলাম খোকন। এ ঘটনায় খোকনের বড়ভাই রেজাউল ইসলাম রাজু বাদী হয়ে গত ১৬ মে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে বিশ্বনাথ থানায় মামলা (নং-৮) দায়ের করেন। মামলায় আসামী করা হয় রফিকের মেয়ে পিংকি অনন্যা প্রিয়াকেও। এরপর থেকেই স্বপরিবারে আত্মগোপনে চলে যায় রফিক ও পিংকি। পরে উচ্চ আদালত থেকে এই মামলায় জামিন নেয় পিংকি।

শেয়ার করুন