চেম্বার নির্বাচন: সিলেটের ব্যবসায়িক অঙ্গন সরগরম

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ২০১৯-২১ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী ২১ সেপ্টেম্বর। এ দিন চেম্বারের ২ হাজার ৪৫৬ জন ভোটার এ দিন চার ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদে সর্বমোট ২২ জন পরিচালককে আগামী দুই বছরের জন্য নির্বাচিত করবেন।

নগরীর ধোপাদিঘীরপারস্থ ইউনাইটেড সেন্টারে এ ভোট গ্রহণ করা হবে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব ধরণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে নির্বাচন বোর্ড। দুটি প্যানেলে ভাগ হয়ে শেষ নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরাও। ভোটার কার্ড ইস্যুও চলমান রয়েছে।

চেম্বার প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্বাচনের কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পরিদর্শন করেছেন। নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি অবহিতকরণের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনও করেছে সিলেট চেম্বার। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় চেম্বার ভবনের কনফারেন্স হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

# মোট ভোটার: ২৪৬৫ জন। এর মধ্যে অর্ডিনারি ক্যাটাগরিতে ১৪১৩ জন, এসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে ১০৪০ জন, গ্রুপ ক্যাটাগরিতে ১১ জন এবং এসোসিয়েশন ক্যাটাগরিতে ১ জন ভোটার রয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের এ সংগঠনের সাথে সিলেট অঞ্চলের বাণিজ্যিক ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ দিন দেশে-বিদেশে সুনাম আর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে সংগঠনটি। তবে কয়েক বছর ধরে চেম্বারের আধিপত্য বিস্তারে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতিযোগিতার কারণে নানা সংকটের পাশাপাশি অনৈক্যেরও সৃষ্টি হয় । চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটার তালিকা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এবং আইনি জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হয় পরিচালনা পর্ষদ। পরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাদ দিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনকে প্রশাসক নিযুক্ত করে ১২০দিনের মধ্যে নির্বাচন করার দায়িত্ব দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

পরে নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হয়। সদস্যপদ নবায়ন সাপেক্ষে নতুন ভোটার তালিকায় স্থান পান ২৪৬৫ জন। আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় ৪৪ জন ভোটার হতে পারেন নি। তালিকায় অর্ডিনারি ক্যাটাগরিতে ১৪১৩ জন, এসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে ১০৪০ জন, গ্রুপ ক্যাটাগরিতে ১১ জন এবং এসোসিয়েশন ক্যাটাগরিতে ১ জন ভোটার হন।

সিলেট চেম্বার সূত্র জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর নির্বাচনে ৪টি ক্যাটাগরির মধ্যে অর্ডিনারী শ্রেণীর ১২ টি পরিচালক পদ, এসোসিয়েট শ্রেণীর ৬টি, ট্রেড গ্রুপের ৩টি এবং টাউন এসোসিয়েশন ১টি পরিচালক পদে ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এর মধ্যে টাউন এসোসিয়েশনের পরিচালক পদে একক প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সমশের জামাল। বাকি ২১ পদের ৪০জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন।

অর্ডিনারি শ্রেণির প্রার্থীরা হলেন- এহতেশামুল হক চৌধুরী, মো. সাহিদুর রহমান, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, মুশফিক জায়গীরদার, মো. আবদুর রহমান (জামিল), খন্দকার ইসরার আহমদ রকি, মো. শফিকুল ইসলাম, শান্ত দেব, মো. আবদুস সামাদ, খলিলুর রহমান চৌধুরী, ফখর উস সালেহীন নাহিয়ান, আলীমুল এহছান চৌধুরী, আবু তাহের মো. শোয়েব, মো. মামুন কিবরিয়া সুমন, এনামুল কুদ্দুছ চৌধুরী, মুকির হোসেন চৌধুরী, হুমায়ুন আহমদ, মো. ফারুক আহমদ, মো. নজরুল ইসলাম, জুবায়ের রকিব চৌধুরী, আক্তার হোসেন খান, আবদুল হাদী পাবেল, শহিদ আহমদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ আবদুস সালাম।

অ্যাসোসিয়েট শ্রেণির প্রার্থীরা হলেন- মাসুদ আহমদ চৌধুরী (মাকুম), মো. এমদাদ হোসেন, পিন্টু চক্রবর্তী, আবদুর রহমান, চন্দন সাহা, মো. আতিক হোসেন, ইলিয়াছ উদ্দিন লিপু, কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আবুল কালাম ও মনোরঞ্জন চক্রবর্তী সবুজ। ট্রেড গ্রুপ শ্রেণির প্রার্থীরা হলেন- মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. মাহবুবুল হাফিজ চৌধুরী (মসফিক), মো. নুরুল ইসলাম, তাহমিন আহমদ, মো. আমিনুজ্জামান জোয়াহির ও ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী।

নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খান জানান, নির্বাচনে সকল প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। নির্বাচন বোর্ডের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ভোটার কার্ড ইস্যু শুরু হয়েছে। ভোটারগণ আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজ নিজ সদস্য আইডি কার্ড প্রদর্শনপূর্বক চেম্বার কার্যালয় থেকে অফিস চলাকালীন সময়ে ভোটার কার্ড গ্রহণ করতে পারবেন। ভোটার আইডি কার্ড ব্যতিত কোন ভোটার ভোট প্রদান করতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন