কৃষি খামার রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সিলেটের জৈন্তাপুরের চারিকাটা ইউনিয়নের ভিত্রিখেলে ‘স্যান্ডমার্ক এগ্রো ফার্ম লিমিটেড’- রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগীতা চাইলেন এ ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার। তিনি এ ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বেও রয়েছেন। তার দাবি, ২০১৪ সালে তার স্বামীর মৃত্যুর পর কোম্পানীর চেয়ারম্যান সুনীল নাথ তার ফার্মটি দখলে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে। একই সাথে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অল্প মূল্য দিয়ে ফার্মটি দখল করে নিতে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপও নেন তিনি।

শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবের আমিনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। এছাড়া সুনীল নাথ আইনী ভাবে পরাজিত হয়ে বিভিন্ন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নিকট কোম্পানীর কাগজ ও দলিল পত্র জোর করে নিতে এবং ২ সন্তানসহ আমাকে প্রাণে মারার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে। এ কারণে তিনি তার সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘২১ একর জায়গা নিয়ে ২০০৯ সালে ‘স্যান্ডমার্ক এগ্রো ফার্ম লিমিটেড’ কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন তার স্বামী। এ কোম্পানী ১৯৯৪ ইং সনের কোম্পানী আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত। মোট ৫ জন পরিচালক নিয়ে গঠিত কোম্পানীর পরিচালক হলেন যথাক্রমে ১। সুনীল নাথ, চেয়ারম্যান ২। আমি মিসেস ইয়াসমিন আক্তার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ৩। বিবেকানন্দ নাথ, পরিচালক ৪। রানা নাথ, পরিচালক ৫। হালিমা আক্তার, পরিচালক।’ তবে তার স্বামী সরকারী চাকুরিজীবি হওয়ার কারণে কোম্পানীতে পরিচালক হতে পারেননি। তাই তার স্ত্রী হিসেবে আমি কোম্পানীর পরিচালক হই এবং জন্মলগ্ন থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি এবং জন্মলগ্ন থেকেই আমার স্বামী আমার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।’

তিনি বলেন, ‘২০১২ সালে সালে সরকারি ইইএফ ফান্ডের ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকা সেনশন করা হয় এবং আমার স্বামী জীবিত থাকাকালীন ৮৬ লক্ষ টাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তোলিত টাকা সমূহ পরিচালকদের মতামতের ভিত্তিতে কোম্পানীর বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে ব্যয় করা হয়। যা কোম্পানীর একটি সভার মাধ্যমে বিগত দিনের সমস্ত হিসাব নিকাশ কোম্পানীর প্যাডে কোম্পানীর চেয়্যারম্যান ও পরিচালকদের উপস্থিতিতে ৩০/০৮/২০১৩ তারিখে নিষ্পত্তি করা হয়।’

স্বামী মারা যাওয়ার পর ইয়াসমিন প্রজেক্ট পরিচালনার দায়িত্ব দেন চেয়ারম্যান সুনীল নাথ ও পরিচালক বিবেকানন্দ নাথের উপর। ঋণগ্রস্থ হওয়ায় কোম্পানীকে এগিয়ে নিতে এলাকার জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে শর্ত সাপেক্ষে ৫ লাখ টাকা নিয়ে মাছ চাষ করি। অত:পর ৬ মাসের মধ্যে আনুসাঙ্গিক খরচ বাদে নিজেদের নিকট ৯ লাখ টাকা থাকে। কিন্তু ২০১৪ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি নিয়মমাফিক রেজুলেশন করে ফার্ম দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়ার পর সরলতার সুযোগ নিয়ে সমস্ত টাকা আত্মসাত করে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা সুনীল নাথ। তাদের নিকট হিসাব চাইলেও সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে বরং মেরে ফেলার হুমকী দেয়। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তারা ব্যবসার কোনা হিসাব দেয় নাই। উপরন্তু ইইউএফ ফান্ডের টাকা রিকোভারির চিঠি আসলে তারা আমাকে ফাঁসাতে এককোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা দেয়। পরে ওই মামলা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়, বলেন ইয়াসমিন আক্তার। তারা তার ভাইকেও প্রাণে হত্যায় একাধিকবার হামলা চালায়।

ইয়াসমিনের অভিযোগ, এ বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তার ভাইকে মারধার করে ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে দেওয়ার মামলায় সুনীল নাথ কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু কারাগারে থেকেও সন্ত্রাসী দ্বারা হত্যার হুমকী দিচ্ছে। আইনীভাবে পরাজিত হয়ে তারা জোরপূর্বক ফার্মের দখল দেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে তারা। এ অবস্থায় বিধবা নারী হিসেবে নিরাপত্তাহীন রয়েছেন তিনি। দুস্কৃতিকারীদের হাত থেকে রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগীতা চান ইয়াসমিন।

শেয়ার করুন