আফিফ ঝড়ে জিতলো বাংলাদেশ

মিজান আহমদ চৌধুরী : অবশেষে টানা হারতে থাকা বাংলাদেশ জয়ের দেখা পেলো । রাজধানীর মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ উইকেটে জিতেছে সাকিব আল হাসানের দল । এদিন ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে খাদের কিনারা থেকে তুলে আনেন তরুণ ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেন। আফিফ হোসেনের ৫২ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ দল। অন্যপ্রান্তে থাকা মোসাদ্দেক হোসেনও দেন দারুণ সঙ্গ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৫ রানের জয়ের লক্ষে খেলতে নেমে ধুঁকতে শুরু করে বাংলাদেশ দল। দলীয় ৬০ রানের মাথায় দলটি হারায় ৬ টি মূল্যবান উইকেট।

বাংলাদেশের উইকেটের পতন ঘটে লিটন দাসের সাজঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে। সেসময় দলীয় রান ৩ ওভার শেষে ২৬। এর পরের ওভারের প্রথম বলেই জারভিসের বলে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য সরকার। এরপরই শুরু হয় বাংলাদেশ দলের এক ধরণের বিপর্যয়।

এরপরে দলীয় ১ রান মাত্র যোগ হয়। দলীয় ২৭ রানের মাথায় বাংলাদেশের আরেক নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহমানও শূন্য রানে ফিরে যান।

মাঠে নামেন সাকিব আল হাসান। মুশফিকুর রহমান শূন্য রানে ফিরলে সাকিব নিজের রানের খাতায় ১ যোগ করে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে। বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ২৯, ৪ উইকেটের বিনিময়ে।

এরপর একটু হলেও বাংলাদেশকে আশা দেখাতে শুরু করেন মাহমুদুল্লাহ। তবে সে আশার স্থায়িত্ব বেশিক্ষণ হতে দেয়নি জিম্বাবুয়ের বোলাররা। ব্যক্তিগত ১৪ রান তুলে রায়ান বার্ল’র বলে এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে পড়েন মাহমুদুল্লাহ। বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ৮.১ বল শেষে ৫৬।
মাহমুদুল্লাহ সাজঘরে ফেরার পর বেশিক্ষণ মাঠে টিকতে পারেননি সাব্বিরও। পরের ওভারে ক্যাচ তুলে সাজঘরে যান।

এরপর আবারো স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন বাংলাদেশের দুই তরুণ ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন ও আফিফ হোসেন। দুই এ তরুণ ব্যাটসম্যানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জয় পায় বাংলাদেশ। আফিফ হোসেন ৫২ রানে সাজঘরে ফিরলেও ততক্ষণে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ দল। ১৭ ওভার ৪ বলে ৩ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ।

এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কর্তিত ১৮ ওভারের ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ইনিংস শুরু করেন ব্রেন্ডন টেইলর। দ্বিতীয় ওভার তথা অভিষিক্ত তাইজুলের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই ব্রেক থ্রু পায় বাংলাদেশ। তার বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা পড়েন ৬ রান করা টেইলর

বোলিংয়ে এসেই আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাকে পুল করতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে মোসাদ্দেক হোসেনের তালুবন্দি হন ক্রেইগ আরভিন (১১)। ভাঙ্গে ৪৪ রানের জুটি। ডানা মেলতে শুরু করেছিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের বলে চমৎকার এক ডাইভিং ক্যাচে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ককে ৩৪ রানে থামান সাব্বির রহমান। মোসাদ্দেক বোলিংয়ে এসেই কট অ্যান্ড বোল্ড করেন শন উইলিয়ামসকে (২)। সাকিব-মুস্তাফিজের যৌথ প্রচেষ্টায় টিমিচেন মারুমা (১) রান-আউট হলে ৬৩ রানে ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

ইনিংসের ১৬তম ওভারে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ অধিনায়ক বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসানের এক ওভারে ৩ ছক্কা ৩ চারে ৩০ রান নেন জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান রায়ান বার্ল। এরপর ফ্লাডলাইট নিভে গেলে ৮ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। ম্যাচশেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৪ রান। বার্ল ৩২ বলে ৫৭* আর মুতাম্বোডিজি ২৭* রানে অপরাজিত থাকেন। এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসে ৮১* রান।

এদিকে বৃষ্টির কারণে ভেজা মাঠ প্রস্তুত হওয়ার পর টস হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বৃষ্টির কারণে ১৮ ওভারে নামে উদ্বোধনী ম্যাচটি।

শেয়ার করুন