সিলেটে নতুন কৌশলে এমএলএম!

র‌্যাবের হাতে পাকড়াও প্রতারক সবুজ

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: ইউনিপে টু ইউ। দশ মাসে টাকা দ্বিগুণ। লেনদেনের মাধ্যম ছিল অনলাইনে। সোনায় বিনিয়োগের নামে গড়ে ওঠা এ এমএলএম কোম্পানী ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন সিলেটের কয়েক হাজার বিনিয়োগকারী। দ্বিগুণ মুনাফার আশায় বিনিয়োগ করেছিলেন তারা; তবে এসব গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় কোম্পানীটি।

একই ভাবে ডেসনিটি-২০০০, স্পিক এশিয়া, ভিসারেভসহ নাম সর্বস্ব বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানী নানা সময়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। এসব কোম্পানীর কর্মীদের লোভনীয় কথা বার্তায় আকৃষ্ট হয়ে সহজ পথে টাকাওয়ালা হতে অর্থ বিনিয়োগ করে প্রতারিত হতে হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। বর্তমানে এমএলএম কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও গোপনে নতুন কৌশলে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা মূলত ডেসটিনি, ইউনিপে থেকেই আসা।

সোমবার রাতে নগরীর জিন্দাবাজারের ব্লু-ওয়াটার শপিং সেন্টারে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পায় র‌্যাব। ইউনিপে টু’র আদলে গড়ে ওঠা এ কোম্পানীর নাম ‘ডেল ফিয়ার’। ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটির ৮ম তলার ৮/এইচ এর ‘আমার বাজার লিমিটেড’ নামে দোকান ভাড়া নিয়ে সেখানেই অবৈধ ভাবে অত্যান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে কোম্পানীটি খোলা হয়েছিল। তারা গ্রাহককে ২০০দিনে দ্বিগুণ টাকা দেয়ায় লোভনীয় ফাঁদে পেলে গ্রাহক সংগ্রহ করছিল। এ কোম্পানীতেও বিনিয়োগের মাধ্যম ছিল ডলারে।

র‌্যাব-০৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, ডেল ফিয়ার নামক অবৈধ এমএলএম কোম্পানীর মাধ্যমে সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্নসাৎ করতেছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারীতে রাখা হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটিকে। পরে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে এক প্রতারককেও আটক করা হয়েছে। প্রতারক হেলাল উদ্দিন সবুজ (৪৭) সিলেটের গোয়াইনঘাটের ফতেহপুরের লামা মইশখেড় গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে। তাকে কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলাও করা হয়েছে। সবুজ ডেসটিনিতেও কাজ করত। সরকার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়ার পর কৌশলে এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সে।

র‌্যাব জানান, উক্ত প্রতারক দল ১০০ ইউএস ডলার বিনিয়োগ করলে দৈনিক ০১ ডলার এরুপ ভাবে সর্বোচ্চ ১০০০০ ডলার বিনিয়োগ করলে দৈনিক ১০০ ডলার লাভ পাওয়া যাবে এই মর্মে সাধারন মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারণা করে আসছিল। তবে প্রশাসনের চোখ আড়াল করতে তারা ‘আমার বাজার লিমিটেড’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া নিয়েছিল।

শেয়ার করুন