সামাজিকভাবে হেয় করতেই তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বক্তব্য দিচ্ছেন দবির

সিলেট প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে ফয়জুল ইসলামের দাবি

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই মোগলাবাজারের পশ্চিমভাগের মো. ফয়জুল ইসলামকে জড়িয়ে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিচ্ছেন জালালাবাদ আবাসিক এলাকার দবির আহমদ। একই সাথে ফয়জুলের মালিকানাধীন শাহজালাল মৎস খামার ও বাগান সন্ত্রাসীদের দিয়ে দখলও করিয়ে নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তাকে হত্যারও হুমকি দিচ্ছেন; ফলে তিনি ও তার পরিবার প্রাণনাশের শঙ্কায় রয়েছেন।

সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবের আমিনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন মোগলাবাজারের পশ্চিমভাগের মৃত আব্দুল খালিকে ছেলে ফয়জুল ইসলাম লেইছ। লিখিত বক্তব্যে তিনি ন্যায় বিচার চেয়ে তার লিজ নেয়া খামার উদ্ধারে প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন। একই সাথে তার বিরুদ্ধে করা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সবার প্রতি আহ্বানও করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দবির আহমদ তার সম্পর্কে ভায়রা। গোয়াইনঘাট থানার ফতেহপুর ইউনিয়েনের স্থিত রামনগর গুলিনি ও গুলনীর চা বাগান মৌজায় অবস্থিত তার ৬৫ একর জমির ২২টি পুকুর ও গাছ বাগান একসময় পতিত বিরাণ ভূমি ছিল। এক সময় এই ভূমির মালিক ছিলেন দক্ষিণ সুরমার বিশিষ্ট মুরব্বি ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় হাজী আইয়ুব আলী ওরফে দারা মিয়া। ২০০২ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এই জমি নিয়ে দবির আহমদের সাথে দারা মিয়ার মামলা মোকদ্দমা চলছিল। জায়গাটির উপরে ২২টি মামলা ছিল। এক সময় আমার ভায়রা দবির আহমদ ও তার আত্মীয় স্বজন অসহায় অবস্থায় তার (লেইছ) সাহায্য প্রার্থনা করেন। যেহেতু দারা মিয়া ও আমি একই গ্রামের মানুষ এবং তিনি আমার আত্মীয়ও, সেই সুবাদে তারা আমার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। পরে দারা মিয়ার সাথে দফায় দফায় বৈঠকে বসে সবগুলো মামলা আপোষে নিষ্পত্তি করে এই ভূমিতে দবির আহমদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে দবির মিয়া এই ভূমি তাকে ১০ বছরের চুক্তিতে লিজ প্রদান করেন। আমি তেমন আগ্রহী ছিলামনা। তবে আত্মীয়-স্বজনের অনুরোধে এবং ভায়রা ভাইয়ের সম্পদ সুরক্ষার ইচ্ছায় আমি তা লিজ নেই। বছরে ৫ লাখ টাকার চুক্তিতে আমি লিজ নেয়ার পর এখানে পুকুর খনন, ঘর তৈরি, ড্রেন তৈরি, ফলদ ও অন্যান্য বৃক্ষরোপন বাবদ সর্বমোট ৯৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। গত ৩ মাস আগে ময়মনসিংহের এফআরআই থেকে আরো প্রায় ১ কোটি পোনা এনে এখানকার ২৯টি পুকুরের মধ্যে ১০টি পুকুরে ছেড়েছি যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১কোটি টাকা। এছাড়াও অন্য ১৯টি পুকুরে আমার আগের পুরানো মাছও ছিল।’

তিনি বলেন, সম্প্রতি দবির মিয়া মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ৩ বছর আগেই লিজ বাতিলের অনুরোধ করেন। আমিও তাতে সম্মত হয়ে তাকে জানাই যে, আপনি দেশে আসুন, জায়গাটি দেখুন, তারপর চুক্তি অনুযায়ী যা করা যায় করুন আমার কোন সমস্যা নেই। এ অবস্থায় তিনি আমাকে না জানিয়ে দেশে ফেরেন এবং বিভিন্ন ভাবে বাগানটি দখলের ব্যাপারে হুমকি ধমকি প্রদান করছিলেন। এর প্রেক্ষিতে ১৩ জুলাই ২০১৯ সকালে আমি গোয়াইনঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (নং ৫৩৭) ১৩/০৭/১৯ করি। কিন্তু ওই দিনই দুপুরে দবির মিয়া তার ভাইদেরসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী নিয়ে অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে আমার খামারে প্রবেশ করেন এবং সেখানে দায়িত্ব পালনরত আমার ৪ কর্মীকে অস্ত্র ধরে বাগান থেকে জোর করে বের করে দেন। তারা অফিসের তালা ভেঙে লোটপাট করে ও আসবাবপত্র এবং মূল্যাবান ডকুমেন্টগুলোও তারা ধ্বংস করে ফেলেছে। এরপর থেকে আমার প্রায় ২ কোটি টাকা বিনিয়োগকৃত বাগান ও ফিসারি তার দখলে। এ ঘটনার পর আমি প্রথমে পারিবারিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করি। তা সম্ভব না হওয়ায় সামাজিভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। তিনি প্রতিটি সালিশে উপস্থিত হন। এরপর চুক্তির শর্ত যখন আসে তখনই নানা টালবাহানায় কথা থেকে সরে যান। এমনকি কিছু দিন আগে সিলেট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশফাক আহমদও বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেখান থেকেও তিনি নানা বাহানায় সরে গিয়েছেন। এর আগে তাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলরও বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়ে তার কারণেই ব্যর্থ হন।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘জমিটি লিজ নেয়ার পর সেখানে মোটা অংকের বিনিয়োগ করি তখন তার সাথে যে লিখিত চুক্তি করি তাতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে দীর্ঘ মেয়াদী গাছগুলোর মালিক হবো আমি এবং আমিই তা অপসারণ করব। ৬ নং শর্তে উল্লেখ আছে মেয়াদান্তে যেসব গাছ কাটা যাবেনা সেগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ করে আমাকে প্রদান করবেন। চুক্তিতে মেয়াদের আগে কোনভাবেই চুক্তি বাতিলের সুযোগ ছিলনা। অথচ দবির আহমদ এখন আমার প্রায় ২ কোটি টাকা বিনিয়োগকৃত ভূমিটি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। অথচ তিনিই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে ফয়জুল ইসলাম লেইছ বলেন, ‘দবির আহমদ রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে আমার নামে মানহানীকর মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তার মতো আমার কোন সন্ত্রাসী বাহিনী নেই। তিনি শিপন জাকির আলী হোসেন ছমিরসহ যাদের সন্ত্রাসী হিাসাবে উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্রে শিপন তার শ্যালক যে আমার সাথে আছে। সে তার অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে তার পক্ষে অবস্থান নেয়নি বলে তাকে তিনি সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছেন। তাছাড়া অন্যদের কেউ আমার খামারের ষ্টাফ কেউবা ক্রেতা।

শেয়ার করুন