সফল একজন অভিভাবকের গল্প!

।। মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ।।

বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য মো. এনাম উদ্দিন। পদবী এটিএসআই। বাড়ী মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানায়। আঠারো বছরের তরুণ বয়সে পুলিশের চাকুরীতে প্রবেশ করেছিলেন। বর্তমানে জীবনের ছয়ত্রিশটি বছর এ চাকরীতেই রয়েছেন। তারপরও চেহারায় ক্লান্তি নেই, নেই কোন হতাশার ছাপ। কারণ তিনি একজন সফল অভিভাবক।

তার বড় মেয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন এবং ৩৯তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। আর ছোট ছেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে সফলতার সহিত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

১৯৮৩ সনে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করা এটিএসআই মোঃ এনাম উদ্দিন ব্যাক্তি জীবনে খুবই অমায়িক ও নম্র, ভদ্র একজন মানুষ। খুবই সাদামাঠা জীবন যাপন করেন। কখনো টাকার পিছনে দৌড়াইনি। সরকারি ডিউটির অবশিষ্ট পুরো সময়টায় ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার পিছনে ব্যয় করেছেন। অর্থ, বৃত্ত উনার কাছে নেহায়েত তুচ্ছ।

সফল একজন অভিভাবকের গল্প! মোঃ এনাম উদ্দিন। এটিএসআই। কমলগঞ্জ থানায় বাড়ি। আঠারো বছরের যুবক পুলিশের চাকুরীতে জীবনের…

Posted by Mohammad Hafizur Rahman on Sunday, August 4, 2019

গর্বিত বাবা তিনি। কি অদ্ভুত! উনার নেই কোন ব্যাংক বেলেন্স, নেই কোন অট্রালিকা রাজপ্রসাদ। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন এবং সমাজে নিজের যোগ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।

এই সমাজে টাকা ও পদ-পদবী দিয়ে হয়তো নিজে খানিকটা সম্মান ও প্রভাব বিস্তার করা যায়, কিন্তু সন্তান মানুষ করা যায়না। যার জলন্ত উদাহরণ এটিএসআই এনাম উদ্দিন। আজকে যারা সম্পদ আর পদ-পদবির ভারে গর্বিত, তাদের সন্তান যদি মানুষ না হয় পরবর্তীতে তাদের ততটাই লজ্জিত হতে হয়।

সফল অভিভাবকের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। সকল সন্তানেরা মানুষের মত মানুষ হোক। এটায় আমাদের কামনা।

লেখক পরিচিতি: বাংলাদেশ পুলিশের হেড কোয়ার্টারে কর্মরত। তার ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে লেখাটি নেয়া।

শেয়ার করুন