মোজাফফর আহমদের দাফন সম্পন্ন

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) একাংশের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার বাদজোহর চতুর্থ জানাজা শেষে কুমিল্লার দেবিদ্বারের এলাহাবাদ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় সমায়িত করা হয় তাকে।

এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে তৃতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ন্যাপ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নের্তৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

এর আগে গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ও বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রথম ও ২য় জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

আরও পড়ুন-ন্যাপ সভাপতি মোজাফফর আহমদ মারা গেছেন

বাম রাজনীতির অন্যতম পুরোধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা আলহাজ কেয়াম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং মাতা আফজারুন্নেছা।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জন্ম ১৯২২ সালে ১৪ এপ্রিল কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে। বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক। ১৯৩৭ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এই রাজনীতি করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে কুমিল্লার দেবিদ্বার আসনে মুসলীম লীগের জাঁদরেল প্রার্থী মফিজউদ্দিনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে ন্যাপ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একভাগ মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে থাকলেও অন্য অংশ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বে আলাদা হয়ে যায়।

রাজনীতিতে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ সততাকে ব্রত করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ন্যাপ-সিপিবি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠনে তার ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।

শেয়ার করুন