পশু জবাইর সরঞ্জাম কেনার হিড়িক

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে সোমবার। এই ঈদে মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের মহান প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনে সাধ্যমত পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। তাই যারা কোরবানি দেবেন তাদের বেশিরভাগই এরই মধ্যে পশু কিনে ফেলেছেন। আর যারা এখনও কিনেননি তারা পশু কিনতে ভীড় করেছেন নগরীর বিভিন্ন গরুর হাটে।

প্রতি বছরই পছন্দসই কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি ইত্যাদি সরঞ্জাম কেনার হিড়িক পড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত এসব সরঞ্জাম কেনার জন্য ক্রেতারা ছুটছেন কামারশালা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানে। ফলে জমজমাট হয়ে উঠেছে পশু জবাই’র সরঞ্জাম বিক্রি।

শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। কামার এবং ছুরি-চাকু বিক্রির অস্থায়ী দোকানগুলোতে পশু জবাইর বিভিন্ন উপকরণ শোভা পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দা, বিভিন্ন সাইজের চাকু, চাপাতি, ভোজালী, কুড়াল, মাংস কাটার জন্যে গাছের বড়ো টুকরো। রয়েছে হুগলি চাটাইয়েরও পসরা।

এবারে পশুর চামড়া আলাদা, মাংস কাটা এবং জবাই করার ছুরি, চাপাতির দামে তেমন কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করা না গেলেও ক্রেতাদের দাবী গতবারের তুলনায় দাম একটু বেশি। অন্যদিকে বেশি দামের কথা স্বীকার করে দোকানীরা জানালেন, এ বছর কয়লা ও লোহার দাম একটু বেড়ে গিয়েছে। তাই দাম একটু বেশি রাখা হচ্ছে।

দোকানীরা জানালেন, এবার পশুর চামড়া আলাদা করার ছুরি (ছোট) ২৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা, মাঝারি ৪৫ টাকা থেকে ৭৫ টাকা এবং বড় ছুরি ৬৫ টাকা থেকে ১শ’ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। লম্বা ছুরি ১৫০ থেকে শুরু করে ৬শ’ টাকা, জবাই করার ছুরি আড়াইশ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা এবং চাপাতি সাড়ে ৩শ’ থেকে ৮শ’, ভোজালী ৩শ’ থেকে ২ হাজার টাকা, হাড় কাটার জন্য কুড়াল ১৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানালেন, কোরবানীর পশুর হাড় কাটতেই চাপাতি, ভোজালী ও কুড়াল বেশী ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া মাংস কাটতে কয়েক ধরনের দা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে লোহার বাটওলা দা, কাঠের বাটওলা দা, বটি দা বিক্রি হচ্ছে ২শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়।

এদিকে লোহার পাশাপাশি স্টিলের তৈরি ছুরি চাকুতেই আকর্ষণ রয়েছে ক্রেতাদের। বন্দর এলাকায় বিভিন্ন দোকানে এগুলো ১শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় পাচ্ছেন ক্রেতারা।

এছাড়া মাংস কেটে রাখার জন্য হোগলা চাটাই এবং বাঁশের ঝুড়ির দোকানেও ক্রেতাদের রয়েছে ভীড়। রোববার মধ্যরাত অবধি এসব সরঞ্জামের দোকানে ক্রেতাদের ভীড় থাকছে।

শেয়ার করুন