দেশে উৎপাদিত পশুতেই সিলেটে কোরবানির চাহিদা মিটবে

বিশেষ প্রতিবেদন :: দেশে উৎপাদিত পশুতেই সিলেটে কোরবানির চাহিদা মিটবে। এজন্য ভারত থেকে আমদানি করতে হবে না পশু। পর্যাপ্ত সংখ্যক গবাদিপশু থাকায় যেমন হাটে সংকট থাকবে না, তেমনিভাবে এবার দামও থাকবে হাতের নাগালে। প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর থেকে এমন দাবি করা হয়েছে।

ঈদের আর মাত্র সপ্তাহ দিন বাকি রয়েছে। এখনও পশুর হাট জমজমাট হয়নি। এছাড়া ঈদ কেন্দ্রীক অস্থায়ী হাটগুলোও বসেনি। তবে পুরোদমে পশুর বেঁচাকেনা শুরু হওয়ার পর থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত পশুর কোন সংকট হবে না জানিয়ে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৪ লাখ ৩০ হাজার পশুর কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; সেই তুলনায় চার জেলার বিভিন্ন পশুর খামারে প্রায় ৫ লাখের ওপরে পশু রয়েছে।

এরমধ্যে চার জেলায় ৩৫ হাজার ৬৬৫টি ছোট-বড় গবাদিপশু মোটাতাজা করণ খামারে ২ লাখ ২ হাজার ৯শ’ ২টি গবাদিপশু রয়েছে। এছাড়া কৃষক এবং গৃহস্থের কাছে সবমিলিয়ে আরও প্রায় তিন লাখ পশু রয়েছে।

অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘সিলেট বিভাগের চার জেলায় গত বছর কোরবানি হয়ে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৮শ’ ৮৪টি গবাদিপশু। সেই হিসেবে এবারের ঈদেও ঠিক এ সংখ্যক পশু কোরবানির সম্ভাবনা আছে।’ তিনি জানান, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন খামারে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার গরু মজুদ রয়েছে। সিলেটের বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা গরু দিয়ে বাকি চাহিদা মিটবে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, গবাদিপশুর খামার লাভবান হওয়াতে কয়েক বছর ধরে সিলেট অঞ্চলের তরুণরা খামার গড়ে তুলছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে তারা গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। তবে খামারিরা জাতে ক্ষতিকারক স্টেরয়েড ব্যবহার করতে না পারেন সেদিকে তাদের নজর রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো শহীদুল ইসলাম জানান, কুরবানীর ঈদ উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামকে প্রধান করে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কসাইদের একদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ঈদের সময় পশুর হাটে ভেটেরিনারী মেডিকেল টিমও প্রেরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সিলেট জেলার ১০ হাজার ৮শ’ ৪৩ টি খামারে ৮৭ হাজার ১শ’ ৯০ টি গবাদিপশু রয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ৬০ হাজার ৭শ’ ৪৮টি, গাভী ৭ হাজার ৭শ’ ৯৮টি, ৩ হাজার ১শ’ ১৪ টি মহিষ, ৯ হাজার ৭শ’ ৩৬ টি ছাগল, ৫ হাজার ৬শ’৭৬ টি ভেড়া ও ১শ’ ১৮ টি অন্যান্য পশু রয়েছে। এ জেলায় গতবছর ১ লাখ ৮০ হাজার ৪শ’ ৩৫ টি পশু কোরবানি হয়।

একই ভাবে মৌলভীবাজার জেলার ৭ হাজার ৪৭ টি খামারে ২৭ হাজার ৫শ’ ০৭ টি পশুর মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ২শ’ ৬ টি ষাঁড়, ২ হাজার ৩শ’ ৩৬ টি গাভী, ৬শ’ ৮১ টি মহিষ, ৩ হাজার ৪শ’ ৬১ টি ছাগল ও ৮শ’ ২২ টি ভেড়া রয়েছে। গেল বছর এ জেলায় ৮৯ হাজার ৯শ’ ৬১ টি পশু কোরবানি হয়।

তাছাড়া হাওর জনপদ সুনামগঞ্জ জেলার ৯ হাজার ৬শ’ ৩৮ টি খামারে ৫৯ হাজার ১শ’ ৯ টি পশুর মধ্যে ৪৮ হাজার ৫শ’ ৯৯ টি ষাঁড়, ৫ হাজার ১৩ টি গাভী, ৮শ’ ৫৮ টি মহিষ, ৩ হাজার ৩শ’ ২৪ টি ছাগল ও ১ হাজার ৩শ’ ১৫ টি ভেড়া রয়েছে। এ জেলায় গেল বছর ৬৩ হাজার ১টি পশু কোরবানি করা হয়।

আর হবিগঞ্জের ৮ হাজার ১শ’ ৩৭ টি খামারে ২৯ হাজার ৯৬ টি গবাদিপশুর মধ্যে ১৯ হাজার ৫শ’ ৭ টি ষাঁড়, ৪ হাজার ৪শ’ ৭২ টি গাভী, মহিষ ৫শ’ ৫৪ টি, ৩ হাজার ৩শ’ ৯২ টি ছাগল, ১ হাজার ১শ’ ৬১ টি ভেড়া এবং ১০ টি অন্যান্য পশু রয়েছে। এই জেলায় গেল বছল ৯৩ হাজার ৪শ’ ৮৭ টি পশু কোরবানি হয়।

এদিকে খামারিরা বলছেন, সীমান্ত এলাকা ভারতীয় গরু প্রবেশ না করতে পারে সেদিকে প্রশাসনের দৃষ্টি রাখতে হবে। কেননা অবৈধভাবে পশু আসলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

সিলেট ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মোতাহের হোসেন সুহেল বলেন, ‘গত ৪ বছরে সিলেটে খামারির সংখ্যা ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ থাকায় গত কয়েক বছর খামারিরা ভালো লাভ করেছেন। এবারও যদি ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ থাকে তবে খামারিরা লাভবান হবে।’

শেয়ার করুন