কানাইঘাটে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মসজিদের ইমাম গ্রেফতার

কানাইঘাট প্রতিনিধি :: সাড়ে ৭ বছরের এক মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় হাসান আহমদ (২২) নামে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ। শুক্রবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির সীমান্তবর্তী এরালীগুল বালিছড়া গ্রামে। গ্রেফতারকৃত হাসান আহমদ একই গ্রামের মৃত মাসুক উদ্দিনের ছেলে।

থানা পুলিশ ও শিশু মেয়েটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মর্ণিং সান ইসলামি একাডেমীর দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশুটি বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে টিলার উপরের বাড়ী থেকে নিচে পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় টিলার নিচে বসবাসরত একটি মসজিদের ইমাম হাফিজ হাসান আহমদ কৌশলে শিশু মেয়েটিকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশু মেয়েটি কান্নাকাটি শুরু করে। তখন হাসান মেয়েটিকে একটি পেয়ারা হাতে দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য বলে। মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার মাকে সবকিছু খুলে বললে পিতা আত্মীয় স্বজনদের বিষয়টি জানিয়ে ঐ দিন রাতেই মেয়েকে সাথে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টাকারী হাফিজ হাসান আহমদের বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম এর নির্দেশে থানার পিএসআই সনজিত কুমার রায় একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের চেষ্টার সত্যতা পেলে হাসান আহমদকে গতকাল শুক্রবার ভোরে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। শিশু মেয়েটিকে পুলিশি হেফাজতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)-এ ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, হাসান জকিগঞ্জ উপজেলায় মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর খলাধাপনিয়া গ্রামের একটি জামে মসজিদের ইমাম। ঈদ-উল-আযহার কয়েকদিন আগে সে কানাইঘাটে তার নিজ বাড়ীতে আসে।

থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, তিনি ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠান এবং শিশু মেয়েটির ধর্ষণের চেষ্টাকারী হাসান আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪) এর খ ধারায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীকে আজ শনিবার আদালতে হাজির করা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন