৬১ টাকায় গ্যাস কিনে ৯ টাকায় বিক্রি করছি

ছবি: পিআইডি

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সরকার বিদেশ থেকে ৬১ টাকায় গ্যাস কিনে দেশে ৯ টাকায় বিক্রি করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার গণভবনে চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

বিদেশ সফর থেকে ফিরে প্রতিবারই সংবাদ সম্মেলন করেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। প্রতিবারই সমসাময়িক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

দেশে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল বামজোটের ডাকা হরতাল পালিত হওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন- গ্যাসের দাম বাড়ানো সত্ত্বেও সরকার ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়।

তিনি আরো বলেন, যে দামে সরকার জ্বালানি ক্রয় করা হয় সে দামে বিক্রি করা হলে দেশে জ্বালানিমূল্য আরো অনেক বেড়ে যাবে।

যারা আন্দোলন করছে তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাহলে যে দামে গ্যাস কিনেছি সেই দামেই বিক্রি করি?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ শতাংশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এর কারণ আমরা এনার্জি ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগ দিয়েছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পেরেছি এবং গ্যাস আমাদের আমদানি করতে হচ্ছে। এলএনজি গ্যাস আমদানির জন্য খরচ যথেষ্ট বেশি পড়ে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, দাম যেটুকু বাড়ানো হয়েছে, সেটুকু যদি বাড়ানো না হয় তাহলে আমাদের সামনে দুটি পথ আছে- হয় আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি না বাড়ে, সেজন্য এলএনজি আমদানি কমিয়ে দিয়ে এনার্জির ক্ষেত্র সংকুচিত করে ফেলব। অর্থনীতির উন্নতি হবে না। যদি উন্নতি চান এটাকে মেনে নিতে হবে। শুধু আমরা না গ্যাস আমদানিকারক দেশও এটা মেনে নেয়।

প্রসঙ্গত- পাঁচ দিনের সফরে গত ১ জুলাই চীনের ডালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন সভায় অংশ নেন এবং ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস সোয়াবের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ডালিয়ান থেকে বুধবার বেইজিংয়ে যান শেখ হাসিনা। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াংয়ের তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। এছাড়া চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান লি ঝাংসুও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

তিন বৈঠকেই রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং চীন এ বিষয়ে মিয়ানমারকে বোঝানোর প্রতিশ্রুতি দেয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দুই দেশ মধ্যে পাঁচটি চুক্তি, তিনটি সমঝোতা স্মারক ও একটি লেটার অব এক্সচেঞ্জে সই হয়।

শেয়ার করুন