সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত ॥ দুর্ভোগ চরমে

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেটের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন করে পানি বাড়ায় প্লাবিত হচ্ছে নি¤œাঞ্চল। অনেক রাস্তাÑঘাটও তলিয়ে গেছে। সুরমার পানি কিছুটা কমলেও কুশিয়ারার পানি বেড়ে যাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। পাশাপাশি পানিবাহিত রোগও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে পানিবন্দি মানুষের মাঝে হাহাকার বাড়ছে। চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপদসীমার ১১২ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং জৈন্তাপুরের সারী নদীর পানি সারী পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে আমলশীদ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার ১৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে শেওলা পয়েন্টে ৯৪ সেন্টিমিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের বিস্তৃত এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারি এবং কোথাও কোথাও অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সংলগ্ন ভারতের বিহার এবং নেপালে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আগামী এক সপ্তাহ বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এরপর পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা আছে।

এদিকে জাফলং, বিছানাকান্দি, ভোলাগঞ্জসহ সবকটি পাথর কোয়ারির পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক শ্রমিক। নিরাপত্তাজনিত কারণে সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর, বিছানাকান্দিসহ নদী সংশ্লিষ্ট পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে অনেকটা পর্যকট শুন্য হয়ে পড়েছে সিলেট।

এদিকে সুরমা নদীর পানি উপচে সিলেট নগরীতেও প্রবেশ করেছে। নগরীর উপশহর ছাড়াও তেররতন, যতরপুর, কালিঘাট, মাছিমপুর, সুবহানীঘাট, সবুজবাগসহ সুরমার নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। নগরীর মিরাবাজারে শাহজালাল জামেয়া স্কুলে আশ্রয় কেন্দ্রে ৯০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। সোমবার তাদের ফ্রি চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট উপজেলার প্লাবিত এলাকা থেকে ধীর গতিতে পানি নামছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এবং নদীর পানি না কমায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিতই রয়েছে। কুশিয়ারার পানি বাড়ায় ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ এবং জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ এবং বিয়ানীবাজারে সুরমা এবং কুশিয়ারায় ভাঙনের খবরও পাওয়া গেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও ত্রাণ বিতরণ তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। 

সিলেট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান মজুমদার জানান, বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ পর্যন্ত ৫০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৮ লাখ টাকা এবং দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ১০০ মেট্রিক টন চাল বিভিন্ন উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও ত্রাণ বরাদ্দ করা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন